সাধনা কিভাবে হবে?
ছান্দোগ্যোপনিষৎ বলছেন - " তরতি শোকমাত্মবিৎ" - আত্মাকে যিনি জানেন তিনি শোকের হাত থেকে নিষ্কৃতি পান। উপনিষদ পাঠের উদ্দেশ্য এই, নতুবা কতকগুলো শব্দ মুখস্থ করে লাভ নেই। শব্দগুলিকে সুবিন্যস্তভাবে বলে অপরকে মোহিত করাও উদ্দেশ্য নয়। আমরা মনের অনুশীলন করে তার তীক্ষ্ণতা বাড়াতে পারি, আরও বেশি বস্তুর অভ্যন্তরে প্রবেশ করবার সামর্থ্য বাড়িয়ে দিতে পারি। এমনি করে দর্শন, বিজ্ঞান ইত্যাদি নানা বিষয়ের অনুশীলন করতে পারি। অন্যদিকে মন শুদ্ধ করতে হলে তাকে রাগ দ্বেষ থেকে মুক্ত হতে হবে। জাগতিক বিষয়ে নৈপুণ্য অর্জন করতে গেলে মনকে রাগদ্বেষ থেকে মুক্ত না করলেও চলে, কিন্তু আত্মজ্ঞানের ক্ষেত্রে রাগদ্বেষাদিবিমুক্ত শুদ্ধ মনই একমাত্র অবলম্বন। শাস্ত্র বলে স্থিতপ্রজ্ঞের লক্ষণ যা, তাতে উন্নীত হওয়ার একমাত্র পথ সাধনা। সাধনার অর্থ হলো - তাঁর নামগুণগান, পবিত্র জীবনযাপন করা, সদগ্ৰন্থ পাঠ, ভক্তসঙ্গ করা- এইসব। এর যেকোন একটি নিষ্ঠার সঙ্গে কেউ পালন করলে তাতেও হবে। এছাড়া জপধ্যান তো আছেই। ভগবানকে ভাবতে ভাবতে মানুষ ভগবানের মতোই হয়ে যায়। ভগবানের অভাবে এই জীবনটা যখন অসহ্যবোধ হবে, তখনই অরুণোদয় হবে। তারপর তাঁকে লাভ করতে আর দেরি নেই। এইরকম মনের ব্যাকুলতা না হওয়া পর্যন্ত আমরা যাই করি না কেন, কোন কিছুই কিছু নয়। চেষ্টা ছাড়লে হবে না। যতক্ষণ না এইরকম ব্যাকুলতা হচ্ছে,ততক্ষণ চেষ্টা করে যেতে হবে। সাধন করে তাঁকে লাভ করবো, লক্ষ লক্ষ জপ করে তাঁকে বশীভূূত করে ফেলব - এটি আমাদের ভুল ধারণা। সাধন করে নিজেদের অভিমানটুকু চূর্ণ করতে হবে যে তাঁকে সাধন করে লাভ করা যায় না। তখনই আমাদের উপর তাঁর কৃপা বর্ষিত হবে। কিন্তু আমাদের গোনা দিন শেষ হয়ে আসছে। জীবনটা তার শক্তি নিয়ে প্রচণ্ড গতিতে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে চলেছে। কাল কী হবে জানিনা। পরমুহূর্তে কী হবে জানিনা। তাই প্রতিটি মুহূর্ত ব্যবহার করতে হবে। একটি মুহূর্তও যেন বৃথা বেরিয়ে না যায়। মৃত্যু কেশাগ্ৰ ধরে রয়েছে, এখন কি বলবে- দাঁড়াও, আমি চুলটা বেঁধে নিই?

