পূরব ব্যানার্জীর কবিতা “ দক্ষিণের জানালা” এবং “পিতা”
পিতা
পূরব ব্যানার্জী
মা তো জন্ম দায়িনী ,
মা তো একটা জীবনের সমগ্র ভাষা।
পিতা মানে প্রথম হাসি ,
একবুক ভরসা, স্নেহ, ভালোবাসা ।।
পিতা মানে খোলা আকাশ,
বাঁধ দেওয়া এক দুরন্ত ঝর্ণা।
এক মুখ হাসি ,ব্যস্ততা, দৌড়ঝাঁপ-
আর, লুকানো একবুক যন্ত্রণা ।।
পিতা মানে এক নিশ্চিন্ত আশ্বাস,
রাগ,অভিমান,যুক্তিহীন আবদার।
শৈশবের ঘোড়া ,কাঁধে চড়া,আর-
দ্বিধাহীন কেড়ে খাওয়া মুখের আহার।।
পিতা মানে শাসন ,গঞ্জনা, প্রহার ,
তবু তারই মাঝে অফুরান সান্ত্বনা।
পিতা মানে বুকে জড়িয়ে ধরলেই,
ভুলে যাওয়া যত দুঃখ কষ্ট আর বেদনা ।।
পিতা মানে ঘর ,আশ্রয়,স্বস্তি-
পিতা মানে শত দুর্যোগে এক ছাতা।
শিষ্টাচার,স্বভাব, চলনে বলনে ,
সবেই যেন সন্তানের হুবুহু ছবি পিতা।।
পিতা মানে অভাব আড়াল করে,
ছেলের সাহেবি শখের পূরণ ।
নিজের সুখ কে কাটছাঁট করে,
ছেলের ভবিষ্যতের স্বপ্নে রঙিন ।।
পিতা মানে গর্ব ,স্বাভিমান, মর্যাদা-
পিতা মানে এক অব্যক্ত অহংকার।
পিতা মানে এক নিশ্চিন্তির হাসি,
পৃথিবীর যাবতীয় অধিকার ।।
পিতা মানে শুধুই দেওয়া ,
দান বীর কর্ণ ও হার মানে !
কখনো ধরিত্রী, তো কখনো আকাশ ,
এই জীবন বৃথা পিতার বিনে ।।
মা তো জননী গর্ভধারিণী ,
বিশ্বপিতাও মায়ের কাছে ঋণী।
সব করেও আড়ালে থেকে ,
পিতা যেন অন্তর্যামী পরশমণি ।।
দক্ষিণের জানালা
পূরব ব্যানার্জী
দক্ষিণের জানালা খোলা,
খোলা একটুকরো স্বাধীনতার সম্ভাবনা !
সারাটা দিনের ব্যস্ততার অবসরে,
একটু প্রকৃতির কাছে একাকী আনমনা,
অনন্ত অসীম আকাশের পানে চেয়ে চেয়ে -
একটু শৈশবের স্মৃতিপটে আনাগোনা !!
সেখানে শুধুই তুমি আর আমি -------
আর পলাশ ফুল শিমুল ফুল রাধাচূড়া ও কৃষ্ণচূড়া ,
প্রকৃতি সুন্দরী সাজে, স্বপ্নলোকের অনন্ত পথ !
ভোরের শিশিরে পা ভিজিয়ে হাতে হাত রেখে, অনির্দিষ্ট হেঁটে চলা ,
আর কিছু না-বলা স্বপ্ন প্রতিশ্রুতি, অব্যক্ত ভালোবাসা !!
সারাদিনের ক্লান্তি আর অবজ্ঞায় দীর্ণবিদীর্ণ হৃদয়ের একটু সুখের সমীরণ,
একটু স্মৃতির রোমন্থন -------------
খোলা আছে দক্ষিণের উন্মুক্ত বাতায়ন ।।
দূরন্ত পৃথিবীর সাথে প্রতিদিনের বেঁচে থাকার সংগ্রামে,
দক্ষিণের জানালা বেয়ে সকালের একমুঠো রোদ ----------
সন্ধ্যের রক্তিম আকাশে সানন্দে ফিরে আসা পাখিদের আশ্রয়ে,
তোমার জন্য কিছু করার অদম্য বাসনার নিঠুর দংশন !
নির্জন একাকিত্বের পৃথিবীতে তোমার অম্বেষণ ।।
তোমার জন্য আমি আকাশ হয়ে যুগ যুগান্তরের পথ চেয়ে থাকতে পারি,
আমার চাওয়া-পাওয়ার সবটুকু,
আমি শুধুই তোমারই জন্য ভুলে থাকতে পারি !
যদি তুমি বলো,
আমি তোমার জন্য মৃত্যুকেও হাসি মুখে ছুঁয়ে আসতে পারি,
তোমার জন্য আমি অহল্যার মতো পাথর রূপে --------------
শতাব্দীর পথ চেয়ে অপেক্ষায় থাকতে পারি !
জানি এসবই আমার অলীক কল্পনা,
শুধুই তোমাকে ঘিরে !
তোমাকে চাওয়া, তোমার জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া,
সে তো সবই আমার একাকীত্বের স্বপ্ন,
আমার সুষুপ্তি, আমার অন্তরিক্ষের চেতনা !
সারাটাদিনের বিষণ্ণতা অবসাদ শেষে, ক্লান্ত পরিযায়ী পাখির মতোই,
দক্ষিণের জানালা খুলে আমার নিঃসঙ্গতায় ----------
কেবলই তোমাকে ঘিরে বেঁচে থাকার সাধনা ।।

