সর্বশেষ খবর
বিপুল জালিয়াতি, তদন্তে চীন
প্রকাশিত: ২০ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে এক অবিশ্বাস্য এবং চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে এল। চীন দেশে রপ্তানির উদ্দেশ্যে পাঠানো কনটেইনারের কাগজপত্রে লেখা ছিল 'ডাব' এবং 'কলা'। কিন্তু কাস্টমস বা শুল্ক দপ্তরের কর্মকর্তারা সেই কনটেইনার খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ! ভেতরে থরে থরে সাজানো রয়েছে বিপুল পরিমাণ মুরগির পা (চিকেন ফিট)। থাইল্যান্ডের এই বড়সড় কারচুপি হাতেনাতে ধরে ফেলেছে চীনের শুল্ক বিভাগ। এই ঘটনার পরেই কড়া পদক্ষেপ করে থাইল্যান্ডের পাঁচটি প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট থেকে মুরগির পা আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত করে দিয়েছে বেইজিং।
আন্তর্জাতিক বাজারে চীনের এই কড়া পদক্ষেপের পর থাইল্যান্ডের কৃষি ও সমবায় মন্ত্রক নড়েচড়ে বসেছে। মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে। যে পাঁচটি থাই কারখানার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, সেগুলির লাইসেন্সও আপাতত বাতিল করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, শুল্ক ফাঁকি দেওয়া এবং বেআইনিভাবে সস্তায় মাংস পাচার করার জন্যই নথিপত্রে এই ধরনের জালিয়াতি করা হয়েছিল।
চীনে মুরগির পায়ের বিপুল চাহিদা রয়েছে। খাদ্যতালিকায় এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়ায় প্রতি বছর থাইল্যান্ড থেকে প্রচুর পরিমাণে মুরগির পা আমদানি করে চীন। কিন্তু সেই ব্যবসার আড়ালেই যে এমন আন্তর্জাতিক পাচার চক্র সক্রিয়, তা ভাবতেও পারেননি থাই কর্মকর্তারা। তদন্তকারীদের ধারণা, এই চক্রের শিকড় অনেক গভীরে ছড়ানো। নামী প্রক্রিয়াজাতকরণ সংস্থাগুলির আড়ালে অন্য কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী এই চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আপাতত এই পাঁচ কারখানার রপ্তানি বন্ধ থাকায় থাইল্যান্ডের মাংস শিল্পে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিয়ম লঙ্ঘন করায় থাই সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হয়েছে। কড়া নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে এই বিশাল জালিয়াতি হচ্ছিল, তা জানতে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ব্যাংকক।

