যেটা আমরা করতে পারি
সংসারের প্রতিটি খোঁচা, প্রতিটি ধাক্কা, প্রতিটি লাথি, যেন আমাদের ঈশ্বরের দিকে ঠেলে দেয়, আর জগতের অবাস্তবতাকে মনে করিয়ে দেয়। ফলে আমাদের সব নৈরাশ্য, সব দুঃখ আশীর্বাদে পরিণত হয়। রবীন্দ্রনাথ যেমন অনুভব করলেন —"আমার এ ধূপ না পোড়ালে গন্ধ কিছুই নাহি ঢালে, আমার এ দীপ না জ্বালালে দেয়না কিছুই আলো।" স্বামী যতীশ্বরানন্দজী বলছেন - তুমি যদি কোন ভাবে দায়গ্রস্ত হয়ে থাক, তবে ঈশ্বরীয় ভাবের স্রোত ভিতরে নিয়ে এসে বইয়ে দাও সমগ্র আবহওয়ার ভিতর দিয়ে। যখন বাষ্প অনেকটা জমে যায়, তখন তার কিছুটা ছেড়ে দিলে সময়ে সময়ে উপকার হয়, কিন্তু তাও কেবল ঈশ্বরের দিকেই ছাড়বে। তুমি যদি চাও তাঁকে তোমার বন্ধুর মতো, তোমার খেলার সাথীর মত, তোমার সহকর্মীর মত—ভর্ৎসনা করতে পার। সত্যই তাঁর সংস্পর্শে আসার উপায় জানা থাকলে দেখা যাবে তিনি তোমার কত কাছে। খোলাখুলি কথা বলায় তিনি একটুও বিরক্তি বোধ করেন না। অধ্যাত্ম জীবনে একটি মহৎ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল ঈশ্বরের সঙ্গে একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করা। যখন আমরা নিজেকে দুর্দশাগ্রস্ত মনে করি, তখনই আমাদের মন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। উপলব্ধিবান পুরুষ দুঃখবোধ করলেও, তাঁরা নিজেকে তার সাক্ষী স্বরূপ করে রাখেন। তাঁরা তখনই তাঁদের মনকে ঊর্ধ্বমুখী করে নিতে পারেন, আর কোন অবস্থার দ্বারাই প্রভাবিত হন না। আমাদের নিজ নিজ হৃদয়ে অন্তরাত্মার অনুভূতি লাভের সামর্থ্য ক্রমশ বাড়াতে হবে। আমাদের সমস্ত চিন্তা ও অনুভূতি যেন আমাদের অন্তরস্থ দিব্য চৈতন্যর দিকে ফেরানো থাকে। এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। বাহ্য জগতে এত দুঃখ ,এত নৈরাশ্য, এত কষ্ট ও যন্ত্রণা। এ চিরকাল এক রকমই থাকবে। এই জগত প্রপঞ্চ জোড়া জোড়া বিপরীত ভাব ছাড়া থাকতে পারে না। তাই ভাল- মন্দ, সুখ-দুঃখ সব সময়েই থাকবে, নিরবচ্ছিন্ন সুখ কখনই পাওয়া যাবে না। আর এই অবস্থাকে কখনই বদলানোও যাবে না। আমরা যেটা পারি তা হলো আরো বেশি করে ইশ্বরকে আঁকড়ে ধরতে, আর ঈশ্বরের প্রতি এক আন্তরিক শরণাগতির ভাব গড়ে তুলতে। শান্তি ও স্বর্গীয় আনন্দ লাভের এই হলো একমাত্র পথ।

