সর্বশেষ খবর
থাইল্যান্ডে বিদেশীদের অপরাধের রেকর্ড রাখতে এবার ফিঙ্গার প্রিন্ট
প্রকাশিত: ২০ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বিদেশী নাগরিকদের জন্য এক ধাক্কায় নজরদারি ও নিরাপত্তার নিয়ম অনেকটাই কড়া করে দিল থাইল্যান্ড প্রশাসন। সে দেশে বসবাসকারী কিংবা বিভিন্ন সরকারি কাজের উদ্দেশ্যে থাকা বিদেশীদের জন্য জারি হয়েছে এক নতুন নির্দেশিকা। থাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এখন থেকে আর শুধু নামের ওপর ভরসা করে কোনো বিদেশী নাগরিকের অপরাধের ইতিহাস (ক্রিমিনাল রেকর্ড) যাচাই করা যাবে না। জালিয়াতি রুখতে এবং আসল পরিচয় সুনিশ্চিত করতে নামের বদলে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট)।
রয়্যাল থাই পুলিশের অধীনে থাকা ‘ক্রিমিনাল রেকর্ডস ডিভিশন’ এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাটি করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ৯টি ক্যাটাগরির আবেদনের ক্ষেত্রে নামের ভিত্তিতে অপরাধের রেকর্ড খোঁজার পুরোনো ব্যবস্থা একবারে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এখন থেকে ওই আবেদনকারীদের বাধ্যতামূলকভাবে নিজেদের আঙুলের ছাপ জমা দিতে হবে। সরকারি প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে এবং দেশের নিরাপত্তা বিধিমালা পুরোপুরি বজায় রাখতেই এই কড়া নোটিশ জারি করেছে রয়্যাল থাই পুলিশ।
প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত পরিচয় চুরির ঘটনা রুখার তাগিদ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক সময়ই দেখা যায়, অপরাধের ইতিহাস ঢাকতে অনেকে নাম ভাঁড়িয়ে বা জাল নথির সাহায্যে সরকারি সুযোগ-সুবিধার জন্য আবেদন করেন। শুধু নামের ওপর নির্ভর করলে এই ধরনের প্রতারণা ধরা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু আঙুলের ছাপ বাধ্যতামূলক করায় সেই ফাঁকফোকর পুরোপুরি বন্ধ হবে।
এই নতুন নিয়মের ফলে থাইল্যান্ডে কর্মরত, দীর্ঘমেয়াদী ভিসায় থাকা কিংবা ব্যবসা সূত্রে বসবাসকারী বহু বিদেশী নাগরিককে এখন থেকে বাড়তি সতর্ক হতে হবে। যেকোনো সরকারি অনুমোদন বা পুনর্নবীকরণের আবেদনের ক্ষেত্রে এখন থেকে আঙুলের ছাপ দেওয়ার এই নতুন ধাপটি পার করা বাধ্যতামূলক। নিরাপত্তার খাতিরে থাই সরকারের এই কড়া পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলেও বেশ চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

