কেস ফাইল - ৪
টুকরো টুকরো করে কাটা হল গৃহবধূ ও তাঁর নাবালিকা মেয়েকে। কাটলেন ব্যাঙ্ক ম্যানেজার। মাথা, হাত, পা আলাদা করে ব্যাগে ভরলেন। তারপর?
কেস ফাইল ৪
বিশেষ প্রতিবেদনঃ শেওড়াফুলির ঘাটে নিত্য দিনের ব্যস্ততা। লঞ্চে তড়িঘড়ি করে উঠছেন অফিস যাত্রীরা। তাঁদের মধ্যে একজন ব্যস্ত শুটকেস নিয়ে। হটাৎ যেন জলে কি ফেলতে গেলেন। শোরগোল পরে গেল। কি হয়েছিল সেদিন পড়ুন প্রতিবেদনে
দূর্গাপুরের ব্যাংক ম্যানেজার সমরেশ সরকার। আর দশজনের মতই জীবন যাপন করেন। বিভিন্ন ধরনের কাস্টমার আসে। তাঁদের সঙ্গে প্রয়োজন মত কথা বলেন। এক গৃহবধূ মাঝেমধ্যে ব্যাংকে আসেন। লকার ভাড়া নেওয়ার হয়েছে তার। কথা বলতে বলতে তাকে ভালো লেগে যায় ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের। সম্পর্ক গড়ায় ভালবাসায়। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সব ঠিকঠাক চলছিল। ওই গৃহবধূ ছিলেন ডিভোর্সি। তার পাঁচ বছরের এক কন্যা সন্তান ছিল। হঠাৎ করেই ওই গৃহবধূ একদিন জানতে পারেন তিনি সন্তান সম্ভবা। বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন ব্যাংক ম্যানেজারকে। কিন্তু তিনি বিয়ে করতে রাজি ছিলেন না। এদিকে ওই গৃহবধূ ছিলেন নাছোড়বান্দা। তাই পথের কাঁটা সরাতে খুনের ছক কষেন সমরেশ। বাড়ির মধ্যেই ওই গৃহ বধূকে টুকরো টুকরো করে কাটেন। একই ভাবে কাটা হয় তাঁর নাবালিকা মেয়েকে। হাত, পা, মাথা আলাদা করে দুটি ট্রালি ব্যাগে ভরেন ব্যাঙ্ক ম্যানেজার। গাড়ি ভাড়া করে সোজা চলে যান শেওড়াফুলি গঙ্গাঘাটে। লঞ্চে উঠে ট্রলি ব্যাগ দুটি গঙ্গায় ফেলার চেষ্টা করেন। সেই সময়ই লঞ্চে থাকা অন্যান্য যাত্রীরা তাকে ধরে ফেলে। খবর যায় পুলিশের কাছে। ব্যাংক ম্যানেজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশি জোরায় তিনি জানান, প্রথমে ওই গৃহবধূ ও তার মেয়েকে শ্বাসরোধ করে মারা হয়। তারপর কাটারি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ টুকরো টুকরো করে তিনি কাটেন। ২০১৫ সালের সেই ঘটনা আজও মনে করলে শিহরণ জাগে দুর্গাপুরবাসীর।

