জ্ঞান বুদ্ধির লোপ
মহাভারতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, মানুষ ক্রোধের প্রকোপে পড়ে অনেক অপকর্ম করে, যা পরিণামে ধ্বংস ডেকে আনে। শ্রীমদ্ভগবদগীতায় ক্রোধকে নরকের অন্যতম দ্বার বলা হয়েছে। ক্রোধের ফলে দেখা যায় ঝগড়া, শঠে শাঠ্যং মনোভাব ও হিংসার ফলে প্রতিহিংসা। ক্রোধের মারাত্মক পরিণামের উদাহরণ অনেক আছে। সেই কারণেই পৃথিবীর সকল মহাপুরুষগণ মানুষকে তাদের ক্রোধ সম্বন্ধে সতর্ক থাকতে উপদেশ দিয়েছেন। ক্রোধি মানুষেরা অন্য মানুষের গলা কেটে ফেলতেও প্রস্তুত, তারা সবকিছু ভেঙেচুরে লন্ডভন্ড করে দিতেও পারে। তারা অশ্লীল ব্যঙ্গ বিদ্রুপাত্মক বাক্যবাণে সকলকে বিধ্বস্ত করে দেয়। আসলে রেগে যাওয়া একটি বদভ্যাস। প্লূটার্ক বলেছেন, তুমি যদি খুব রেগে যাও তাহলে তোমার সব জ্ঞান বুদ্ধি লোপ পাবে, তোমার মনের সব দরজা বন্ধ হয়ে যাবে যাতে করে ঐ জ্ঞান বুদ্ধি আবার ঢুকতে না পারে। একটি সংস্কৃত শ্লোকে বলা হয়েছে, ভালো মানুষের রাগ ক্ষণস্থায়ী, অর্থাৎ সাধুর রাগ জলের দাগ, মাঝারি ধরনের মানুষদের ক্ষেত্রে দু'ঘণ্টা, তার থেকে নীচুস্তরের মানুষদের ক্ষেত্রে সারাদিন, আর শয়তানদের ক্ষেত্রে রাগ সারা জীবন—আমৃত্যু তাদের রাগ বজায় থাকে। একজন বিখ্যাত মানুষের কাছে তাঁর এক ভক্ত অন্য এক বদ মানুষের দ্বারা অপমানিত হয়ে অভিযোগ করলেন। তখন সেই বিখ্যাত মানুষটিই উত্তরে জানিয়েছিলেন, এক বছর পরেই এই অপমান খুবই তুচ্ছ হয়ে যাবে, তুমি সেই কথাই ভাবো। যে মানুষ নিজেকে জয় করতে পারে অর্থাৎ এই ধরনের ক্রোধ, ঘৃণা, প্রতিহিংসা প্রভৃতি আবেগগুলিকে সংযত করতে পারে সেই মানুষ সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারবে। আর এটিই যারা না পারে তারা নিজের স্ত্রী ছেলেমেয়েদের সাথেও বিবাদে জড়িয়ে পড়ে এবং মনের শান্তি হারিয়ে ফেলে।

