নওদায় জলঙ্গী থেকে উদ্ধার বিজেপি কর্মীর দেহ, তদন্তে পুলিশ
রিচা দত্ত, মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদের নওদায় ফের রাজনৈতিক উত্তেজনা। নওদা থানার গোঘাটা এলাকায় জলঙ্গী নদী থেকে উদ্ধার হল এক সক্রিয় বিজেপি কর্মীর মৃতদেহ। মৃতের হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা থাকায় খুনের অভিযোগ তুলেছে পরিবার।
মৃতের নাম গোপীনাথ হালদার। বয়স ৪০। বাড়ি গোঘাটা এলাকাতেই। স্থানীয়ভাবে তিনি বিজেপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন গোপীনাথ। আত্মীয়-স্বজনরা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনও হদিশ পাননি। সোমবার সকালে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জলঙ্গী নদীর পাড়ে একটি দেহ ভাসতে দেখেন। কাছে গিয়ে তাঁরা চিনতে পারেন, ওটা গোপীনাথের দেহ।
স্থানীয়দের নজরে আসে, দেহের দুই হাত ও দুই পা শক্ত করে বাঁধা। গলাতেও দাগ রয়েছে। এরপরই খবর যায় নওদা থানায়। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় হাসপাতালে।
ঘটনার খবর ছড়াতেই এলাকায় ভিড় জমে যায়। মৃতের পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁদের সরাসরি অভিযোগ, "পরিকল্পনা করে খুন করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।"
ঘটনার জেরে রাজনৈতিক পারদও চড়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মুর্শিদাবাদ জেলা বিজেপির সাংগঠনিক সভাপতি মলয় মহাজন। তিনি নওদা থানার ওসির সঙ্গে কথা বলেন।
মলয় মহাজন বলেন, "আমাদের কর্মী গোপীনাথ হালদার। ওকে গত রাতে গলা, হাত-পা বেঁধে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এটা পরিষ্কার খুন। দেখেই বোঝা যাচ্ছে একাধিক লোক জড়িত। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ওদের সঙ্গে কথা বলে মনে হচ্ছে তদন্ত অনেকটাই এগিয়েছে। আমরা চাই দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক। কেন এমন নৃশংসভাবে খুন করা হল, পরিবারকে সেটা জানাতে হবে। যারা করেছে তাদের শাস্তি হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।"
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

