সর্বশেষ খবর
চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত ১৮, উৎসবের আলো নিভে মুহূর্তে শ্মশানের স্তব্ধতা
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুর্গাপুজোর আনন্দ মুহূর্তে বদলে গেল চরম বিষাদে। উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের প্যান্ডেলে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল অন্তত ১৮ জন দর্শনার্থীর। এই মর্মান্তিক ও অভূতপূর্ব দুর্ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা রাজ্য। ঘটনার জেরে উৎসবের আলো নিভে চোরবাগান এলাকায় এখন শ্মশানের স্তব্ধতা। পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে খবর, দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২৫ জন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মহাষ্টমীর রাতে চোরবাগানের পুজো মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড় সামলাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয় প্রশাসন ও পুজো উদ্যোক্তারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, মণ্ডপে ঢোকা এবং বেরোনোর গলিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি মানুষ ঢুকে পড়ায় হুড়োহুড়ি শুরু হয়। ধাক্কাধাক্কির জেরে প্রথমে কয়েকজন মাটিতে পড়ে যান এবং তাঁদের ওপর দিয়েই শয়ে শয়ে মানুষ চলে যান। ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান বহু দর্শনার্থী। দুর্ঘটনার পরই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তাঁদের অধিকাংশেরই চিকিৎসা চলছে সেখানে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের দেখতে ও আহতদের পরিজনদের সান্ত্বনা দিতে ভিড় জমিয়েছেন উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ।
এই চরম বিপর্যয়ের পর পুজো কমিটি এবং কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাঁদের অভিযোগ, মণ্ডপের প্রবেশ ও নিকাশি পথ অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও কেন ভিড় নিয়ন্ত্রণের কোনও আগাম পরিকল্পনা করা হয়নি? ঘটনার সময় পর্যাপ্ত পুলিশকর্মী উপস্থিত ছিলেন না এবং পুজো কমিটির ভলেন্টিয়ারদেরও কোনও হেলদোল ছিল না বলে ভূরি ভূরি অভিযোগ উঠছে। গাফিলতির অভিযোগে পুজো বন্ধের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ। উৎসবের মরশুমে এমন মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি মহানগরের পুজো পরিক্রমার নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপটিকেই ফের একবার সামনে এনে দিল।

