পুজোর মুখে মুখে হাসি পুরুলিয়ায়, ৫ মাসের বকেয়া বেতন পেলেন যুব ভলান্টিয়াররা
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: উৎসবের মরশুমের ঠিক মুখেই বড়সড় স্বস্তি মিলল পুরুলিয়া জেলার যুব ও ক্রীড়াদপ্তরে কর্মরত ২৩ জন ভলান্টিয়ার্স ও এক কো-অর্ডিনেটরের। বিগত চার মাস ধরে বেতন বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছিলেন তাঁরা। অবশেষে পুজোর ঠিক আগে চলতি মাসের আগাম সহ মোট পাঁচ মাসের বকেয়া বেতন একসঙ্গে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুজোর বোনাস বা বকেয়া একসঙ্গে হাতে পাওয়ায় স্বভাবতই খুশির হাওয়া কর্মী মহলে।
রাজ্য যুব ও ক্রীড়া দপ্তরের অধীনে পুরুলিয়া জেলার প্রতিটি ব্লক ও পুরসভায় একজন করে ভলান্টিয়ার এবং জেলা স্তরে একজন কো-অর্ডিনেটর কর্মরত রয়েছেন। ব্লক ও পুরসভাস্তরে খেলাধুলোর প্রসার, যুবদের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া, এবং সরকারি সচেতনতা শিবির আয়োজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন তাঁরা। তবে অভিযোগ উঠেছিল, গত জুন মাস থেকে আচমকাই তাঁদের বেতন বন্ধ হয়ে যায়। সংসার চালাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছিলেন কর্মীরা। বেতনের দাবিতে জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরেও আবেদন জানিয়েছিলেন তাঁরা। সংবাদমাধ্যমেও এই চরম সংকটের খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, একজন ভলান্টিয়ার মাসে ১২,৭৩০ টাকা এবং কো-অর্ডিনেটর ১৮,০৩৫ টাকা করে বেতন পান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দু’দিন আগেই তাঁদের অ্যাকাউন্টে পুরো টাকা ঢুকেছে। বেতন পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ভলান্টিয়ার বিকাশ মাজি জানান, পুজোয় এই টাকা না মিললে তাঁদের পথে বসতে হতো। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। যুবদপ্তরের এক পদস্থ আধিকারিক আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে এই জট তৈরি হয়েছিল। তবে এবার থেকে প্রতি মাসে নিয়ম করেই তাঁরা বেতন পাবেন।

