অশ্রদ্ধাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি
একজন অশ্রদ্ধাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির মানুষকে চেনার উপায় সম্পর্কে অস্কার ওয়াইল্ড বলেছেন — এই চরিত্রের মানুষ এমন একজন যে প্রত্যেকটি বস্তুর মূল্য জানে কিন্তু কোন কিছুরই তাৎপর্য বোঝেনা। সেই মানুষ অনেক বিষয়ের অনেক কিছু খবর রাখে, কিন্তু কোন কিছুরই অন্তর্নিহিত তাৎপর্য জানার চোখ তার থাকে না। কোন কিছুর প্রকৃত তাৎপর্য বুঝতে হলে একটু গভীর দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন। সেটা অনুভব করতে হলে চাই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। এইরূপ দৃষ্টিভঙ্গি যার আছে সেই চরিত্রটি শ্রদ্ধাবান। একজন বৈজ্ঞানিক অশ্রদ্ধার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করেন না, তার একটা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকে। হয়তো জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে তার অশ্রদ্ধা থাকতে পারে কিন্তু নিজের গবেষণার ক্ষেত্রে তিনি কখনোই ঐরূপ নন। অশ্রদ্ধার দৃষ্টি সবকিছুকেই মূল্যহীন দেখে ও জীবন থেকে তার তাৎপর্য, তার প্রকৃত মূল্য, সবকিছুই হরণ করে নেয়। এই দৃষ্টিতে জন্মদাত্রী মাকেও একজন মহিলা মাত্র মনে হয়, সেখানেই সব শেষ। লোকমান্য বালগঙ্গাধর তিলক তার প্রখ্যাত "গীতা-রহস্য" পুস্তকে এই অশ্রদ্ধা পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে একজন মানুষ তার মাকে কি চোখে দেখে সেটা বিবৃত করেছেন—মা হচ্ছেন সর্বসাধারণের মধ্যে স্ত্রী জাতির বৈশিষ্ট্য নিয়ে এমন একজন ব্যক্তি, যিনি গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসব ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত। এই সংজ্ঞা দিলে কোন মানুষ তার নিজের মাকেও চিনতে পারবে না। কারণ মাতৃত্বের সঙ্গে যে মূল্যবোধ গুলি যুক্ত সেগুলি এই সংজ্ঞা থেকে বর্জিত হয়ে গেছে। কিন্তু অশ্রদ্ধাপূর্ণ মন এই দৃষ্টিতেই সবকিছুকে দেখে। এই দৃষ্টিভঙ্গির কোন ব্যক্তি মূল্যবোধকে অনুধাবন করতে পারে না। এক কথায় এরকম দৃষ্টিভঙ্গির ব্যক্তিদের মধ্যে মূল্যবোধ কিছু থাকেনা। এইরকম মূল্যবোধের শুধু উপযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গি আজ লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করে চলেছে। ফলে বুদ্ধি ও বিচার নিষ্ফলা হয়ে পড়ছে, মানুষকে সত্যের পথে ও পূর্ণতার পথে এগিয়ে দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

