নামমাত্র উপকরণে ঝটপট বানিয়ে ফেলুন সুস্বাদু ‘আলু মরিচ’
বিশেষ প্রতিবেদন: ছুটির দিনের অলস সকাল হোক কিংবা ব্যস্ত কর্মব্যস্ততার ক্লান্তিকর রাত— ঝটপট অথচ সুস্বাদু কোনো পদের খোঁজ পড়লে বাঙালির প্রথম পছন্দ আলু। আর সেই আলুর সাথে যদি গোলমরিচের ঝাল আর ঘিয়ের সুবাস মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়, তবে তো কথাই নেই। অতি সাধারণ ঘরোয়া উপকরণ দিয়ে এবং নামমাত্র সময়ে কীভাবে বানিয়ে ফেলা যায় রেস্তোরাঁ স্বাদের 'আলু মরিচ' (Alloo Marich), রইল তার সহজ ও বিস্তারিত রন্ধনপ্রণালী।
উপকরণ (পরিবেশন: ৩-৪ জনের জন্য)
বাজারচলতি জটিল কোনো মশলা নয়, রান্নাঘরের চেনা জিনিস দিয়েই তৈরি হবে এই পদ:
• আলু: ৪টি মাঝারি মাপের (খোসা ছাড়িয়ে ডুমো ডুমো করে কাটা এবং সেদ্ধ করা)
• গোলমরিচ গুঁড়ো: ১ থেকে দেড় চা চামচ (স্বাদ অনুযায়ী ফ্রেশ থেঁতো করে নিলে গন্ধ ভালো হয়)
• গোটা জিরে: আধা চা চামচ
• কাঁচা লঙ্কা: ৩-৪টি (কুচানো বা চেরা)
• ঘি বা সাদা তেল: ২ টেবিল চামচ (ঘি ব্যবহার করলে স্বাদ বহুগুণ বেড়ে যায়)
• হলুদ গুঁড়ো: সামান্য (ঐচ্ছিক)
• ধনেপাতা কুচি: সাজানোর জন্য
• নুন: স্বাদমতো
ধাপে ধাপে সহজ রন্ধনপ্রণালী
১. আলু প্রস্তুতি: প্রথমে আলু ভালো করে ধুয়ে ডুমো ডুমো চৌকো আকারে কেটে নিন। নুন মেশানো জলে আলু ৮০ শতাংশ সেদ্ধ করে জল ঝরিয়ে রাখুন। আলু যেন অতিরিক্ত গলে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
২. ফোড়ন ও সুবাস: কড়াইতে তেল বা ঘি গরম করুন। ঘি সামান্য গরম হলে তাতে গোটা জিরে এবং চেরা কাঁচা লঙ্কা ফোড়ন দিন। মশলা থেকে সুন্দর গন্ধ বেরোতে শুরু করা পর্যন্ত কয়েক সেকেন্ড নাড়ুন।
৩. আলু ভাজা: এবার সেদ্ধ করে রাখা আলুর টুকরোগুলি কড়াইতে দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে হালকা সোনালী রঙ ধরা পর্যন্ত আলুগুলি ভালো করে ভাজতে থাকুন। এই সময় সামান্য হলুদ গুঁড়ো ও স্বাদমতো নুন যোগ করুন।
৪. মরিচ মিক্স: আলু ভাজা হয়ে এলে ওপর থেকে ফ্রেশ গোলমরিচ গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। গোলমরিচ দেওয়ার পর আঁচ একদম কমিয়ে দিন, যাতে মশলা পুড়ে না যায়। আলুর গায়ে গোলমরিচের আস্তরণ সুন্দরভাবে লেগে যাওয়া পর্যন্ত ২ মিনিট ভালো করে নাড়াচাড়া করুন।
৫. ফিনিশিং টাচ: রান্না শেষে ওপর থেকে সামান্য ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। তৈরি আপনার জিভে জল আনা গরম গরম আলু মরিচ!
• মনে রাখবেন, এই রান্নায় গুঁড়ো মরিচের চেয়ে গোটা গোলমরিচ সামান্য শুকনো খোলায় ভেজে শিলনোড়ায় বা হামানদিস্তায় আধা-ভাঙা (Coarsely ground) করে দিলে স্বাদ ও সুগন্ধ দুই-ই অসাধারণ হয়। রান্নার শেষে নামানোর আগে সামান্য লেবুর রস বা চাট মশলা ছড়িয়ে দিলে পদটিতে একটি চমৎকার চটপটা স্বাদ আসে।
এই পদটি লুচি, পরোটা, রুমালি রুটি কিংবা গরম ফুলকো রুটির সাথে জাস্ট জমে যায়। এমনকি ডাল-ভাতের সাথে সাইড ডিশ হিসেবেও এটি পরিবেশন করা যেতে পারে।

