বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
অবকাশ

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ক্ষুদিরামের অবদান ও বলিদান

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২৬
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ক্ষুদিরামের অবদান ও বলিদান
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

বিশেষ প্রতিবেদন: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সুদীর্ঘ এবং রক্তঝরা ইতিহাসে যে ক’জন বীর বিপ্লবী স্বদেশের মুক্তির জন্য হাসিমুখে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে সর্বাগ্রে এবং উজ্জ্বলতম নক্ষত্র হিসেবে স্মরণীয় মেদিনীপুরের বীর সন্তান ক্ষুদিরাম বসু। মাত্র ১৮ বছর ৭ মাস ১১ দিন বয়সে দেশের স্বাধীনতার বেদিমূলে ফাঁসির দড়ি গলায় পরে তিনি যে নজিরবিহীন আত্মবলিদান দিয়েছিলেন, তা তৎকালীন পরাধীন ভারতবর্ষের বুকে এক অভূতপূর্ব আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তাঁর এই আত্মত্যাগ কেবল বাংলার যুবসমাজকেই নয়, সমগ্র দেশের মুক্তি আন্দোলনকে এক সশস্ত্র এবং আপসহীন রূপ দিয়েছিল। আজও কোটি কোটি ভারতবাসীর হৃদয়ে দেশপ্রেমের চিরন্তন প্রতীক হিসেবে অবিনশ্বর হয়ে রয়েছেন এই কিশোর বিপ্লবী।

১৮৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর তত্কালীন অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার (বর্তমান পশ্চিম মেদিনীপুর) কেশপুর ব্লকের অন্তর্গত মোহবনি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ক্ষুদিরাম। তাঁর পিতা ত্রৈলোক্যনাথ বসু ছিলেন নাড়াজোল রাজ স্টেটের তহশিলদার এবং মাতা লক্ষ্মীপ্রিয় দেবী ছিলেন এক পরম ধার্মিক নারী। তিন কন্যার পর ক্ষুদিরামের জন্ম হওয়ায় তাঁর জীবন নিয়ে আশঙ্কিত ছিলেন মাতাপিতা। তৎকালীন কুসংস্কার ও স্নেহের বশবর্তী হয়ে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে তাঁকে তাঁর বড় দিদি অপরূপা দেবীর কাছে মাত্র তিন মুঠো খুদের (চালের টুকরো) বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। এই ‘খুদ’-এর বিনিময়ে কেনা হয়েছিল বলেই তাঁর নামকরণ করা হয়েছিল ‘ক্ষুদিরাম’।
দুর্ভাগ্যবশত, শৈশবেই তিনি মাতাপিতাকে হারান। মাত্র ছয় বছর বয়সে মাতৃহারা এবং সাত বছর বয়সে পিতৃহারা হন ক্ষুদিরাম। এরপর তাঁর বড় দিদি অপরূপা দেবী এবং ভগ্নিপতি অমৃতলাল রায় (যিনি মেদিনীপুর আদালতের ক্লার্ক ছিলেন) তাঁকে নিজেদের কাছে নিয়ে আসেন। তমলুকের হ্যামিল্টন স্কুল এবং পরবর্তীতে মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলে তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু হয়। তবে ছোটবেলা থেকেই পাঠ্যবইয়ের প্রথাগত শিক্ষার চেয়ে অ্যাডভেঞ্চার, খেলাধুলা এবং দেশের মানুষের প্রতি এক সহজাত টান ছিল তাঁর মধ্যে।
১৯০৫ সালের লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন যখন সমগ্র বাংলাকে অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে, সেই সময় কিশোর ক্ষুদিরামের মনে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণার জন্ম নেয়। মেদিনীপুরের তৎকালীন প্রখ্যাত বিপ্লবী সত্যেন্দ্রনাথ বসু এবং জ্ঞানেন্দ্রনাথ বসুর সংস্পর্শে আসেন তিনি। তাঁদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে পূর্ণসময়ের জন্য সশস্ত্র বিপ্লবী সংগঠন ‘যুগান্তর’-এ যোগ দেন। কিশোর বয়সেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, কেবল মাত্র আবেদন-নিবেদনের রাজনীতি দিয়ে ব্রিটিশদের এদেশ থেকে তাড়ানো সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সশস্ত্র আঘাত।
যুগান্তর দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে ক্ষুদিরাম অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের সাহসিকতা ও দক্ষতার পরিচয় দেন। ১৯০৬ সালের প্রথম দিকে মেদিনীপুরের এক শিল্প প্রদর্শনীতে ‘সোনার বাংলা’ নামক একটি ব্রিটিশ বিরোধী ইশতেহার বা পুস্তিকা বিলি করার সময় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করে। কিন্তু কিশোর ক্ষুদিরাম অত্যন্ত চাতুর্যের সঙ্গে এক পুলিশ কর্মীকে আঘাত করে সেখান থেকে পালিয়ে যান। এই ঘটনাটি মেদিনীপুরের বিপ্লবী মহলে তাঁর নাম ছড়িয়ে দেয়। যদিও পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে রাজদ্রোহের মামলা রুজু করা হয়েছিল, কিন্তু প্রমাণের অভাবে এবং বয়সের কথা বিবেচনা করে আদালত তাঁকে খালাস দিতে বাধ্য হয়।
এর পর থেকেই ক্ষুদিরামের বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের পরিধি আরও বাড়তে থাকে। তিনি মেদিনীপুরের গুপ্ত সমিতির আখড়ায় লাঠিখেলা, তলোয়ার চালনা এবং কুস্তি শেখার পাশাপাশি গোপনে বোমা তৈরি ও বন্দুক চালনার প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। ১৯০৭ সালে মেদিনীপুরের রেলস্টেশনে ব্রিটিশ গভর্নর লর্ড ফ্রেশারের বিশেষ ট্রেন ওড়ানোর গুপ্ত পরিকল্পনাতেও তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। যদিও সেই প্রচেষ্টা পুরোপুরি সফল হয়নি, কিন্তু তা ব্রিটিশ গোয়েন্দা দপ্তরের রাতের ঘুম উড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।
বিংশ শতকের শুরুতে কলকাতার চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড সাহেব ছিলেন ভারতীয় বিপ্লবীদের কাছে এক চরম অত্যাচারী ও নিষ্ঠুর শাসক হিসেবে পরিচিত। সামান্য অপরাধে বা ব্রিটিশ বিরোধী স্লোগান দেওয়ার অপরাধে তিনি ভারতীয়দের, বিশেষত তরুণ ও ছাত্রদের অমানুষিক বেত্রাঘাত ও কঠোর কারাদণ্ডের আদেশ দিতেন। সুশীল সেন নামক এক কিশোরকে প্রকাশ্য আদালতে কিংসফোর্ডের ১৫ ঘা বেত্রাঘাতের নির্দেশ তৎকালীন বাংলার বিপ্লবী সমাজ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। যুগান্তর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব অরবিন্দ ঘোষ, বারীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং বাঘা যতীন সিদ্ধান্ত নেন যে, কিংসফোর্ডকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে অর্থাৎ তাঁকে হত্যা করতে হবে।
বিপ্লবীদের এই গুপ্ত পরিকল্পনার কথা আঁচ করতে পেরে ব্রিটিশ সরকার সুরক্ষার স্বার্থে কিংসফোর্ডকে কলকাতা থেকে বিহারের মোজাফফরপুর জেলায় সেশন জাজ হিসেবে বদলি করে দেয়। কিন্তু বিপ্লবীরা তাঁদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি। কিংসফোর্ডকে তাঁর নতুন কর্মস্থলেই সশরীরে খতম করার দায়িত্ব দেওয়া হয় মেদিনীপুরের ১৯ বছর বয়সী ক্ষুদিরাম বসু এবং রংপুর থেকে আসা ২০ বছর বয়সী বিপ্লবী প্রফুল্ল চাকীর ওপর।
১৯০৮ সালের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে দুই তরুণ বিপ্লবী নিজেদের নাম ও পরিচয় গোপন করে মোজাফফরপুরের একটি ধর্মশালায় গিয়ে ওঠেন। সেখানে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তাঁরা কিংসফোর্টের প্রতিদিনের গতিবিধি, তাঁর আদালত যাওয়ার সময় এবং তাঁর ব্যবহৃত গাড়ির ওপর কড়া নজরদারি চালান। ৩০ এপ্রিল, ১৯০৮ সালের সেই ঐতিহাসিক রাত। মোজাফফরপুরের ইউরোপীয় ক্লাবের সামনে অন্ধকার রাস্তায় ওত পেতে বসেছিলেন ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকী। রাত সাড়ে আটটা নাগাদ ক্লাব থেকে একটি ঘোড়ার গাড়ি বেরিয়ে আসতে দেখে কিংসফোর্ডের গাড়ি মনে করে ক্ষুদিরাম সেটি লক্ষ্য করে শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করেন।
মুহূর্তের মধ্যে এক বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। গাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সেই গাড়িতে কিংসফোর্ড ছিলেন না। সেই সন্ধ্যায় কিংসফোর্ডের গাড়ির মতোই দেখতে অন্য একটি গাড়িতে ফিরছিলেন প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার পিয়ার্স কেনেডির স্ত্রী এবং তাঁর কন্যা। এই দুই ইউরোপীয় নারী বোমার আঘাতে মারা যান।
ঘটনার পর রাতেই চারদিকে হুলস্থুল পড়ে যায়। পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী গোটা মোজাফফরপুর জেলা এবং সংলগ্ন রেল স্টেশনগুলি ঘিরে ফেলে। ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকী রেললাইন ধরে হেঁটে আলাদা আলাদা পথে পালানোর সিদ্ধান্ত নেন। পাছে জুতো দেখে কেউ চিনে ফেলে, তাই জুতো খুলে খালি পায়ে সারারাত ধরে প্রায় ২৫ মাইল পথ হাঁটেন ক্ষুদিরাম। পরদিন ১ মে সকালে প্রচণ্ড তৃষ্ণা ও ক্লান্তিতে অবসন্ন হয়ে তিনি ওয়াইনি (বর্তমানে ক্ষুদিরাম বসু পুসা) রেল স্টেশনের একটি দোকানে জল খেতে যান।
সেখানে উপস্থিত দুই বাঙালি পুলিশ কনস্টেবলের সন্দেহ হয় ক্ষুদিরামের ধুলোমাখা পা এবং কোটের পকেটে থাকা দুটি রিভলভার দেখে। তাঁরা তাঁকে জাপটে ধরেন। ক্ষুদিরাম পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ওয়াইনি স্টেশন থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে, প্রফুল্ল চাকী সমস্ত বাধা পেরিয়ে সমস্তিপুর হয়ে মোকামা ঘাটে পৌঁছালেও সেখানে সমস্তিপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর নন্দলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সন্দেহের তালিকায় পড়েন। পুলিশ তাঁকে ঘিরে ফেললে প্রফুল্ল চাকী আত্মসমর্পণ না করে নিজের রিভলভারের গুলিতে নিজের মাথায় গুলি করে দেশের জন্য আত্মাহুতি দেন।
ক্ষুদিরামকে যখন লোহার হাতকড়া পরিয়ে মোজাফফরপুর স্টেশনে নিয়ে আসা হয়, তখন সমবেত শয়ে শয়ে মানুষ অবাক হয়ে যান। এক কিশোরের এমন দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ড দেখে খোদ ব্রিটিশ সাহেবদের চোখ কপালে উঠেছিল। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় ছিল, ধরা পড়ার পরেও ক্ষুদিরামের মুখে কোনও ভয়ের চিহ্ন ছিল না, বরং এক অদ্ভুত প্রশান্তি ও বিজয়ের হাসি লেগেছিল তাঁর ঠোঁটে।
১৯০৮ সালের ২১ মে থেকে মোজাফফরপুর আদালতে ক্ষুদিরামের ঐতিহাসিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিচারক কর্নডফ সাহেবের এজলাসে মামলা চলে। ক্ষুদিরামের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় আইনজীবীরা প্রথমে ইতস্তত করলেও পরবর্তীতে কালিদাস বসু, উপেন্দ্রনাথ সেন সহ বেশ কিছু নির্ভীক আইনজীবী তাঁর পক্ষে সওয়াল করেন। আদালতে ক্ষুদিরাম স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেন যে তিনি কিংসফোর্ডকেই মারতে চেয়েছিলেন এবং দুই নির্দোষ নারীর মৃত্যুর জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। বিচার চলাকালীন তিনি এক মুহূর্তের জন্যও নিজের জীবন ভিক্ষা করেননি বা ক্ষমা চাননি। ১৩ জুন বিচারক তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। আইন অনুযায়ী হাইকোর্টে আপিল করা হলেও ১১ জুলাই সেই আপিল খারিজ হয়ে যায় এবং ফাঁসির সাজা বহাল থাকে।
১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট ভোর ৫টা। মুজাফফরপুর জেলের ভেতরে তৈরি হয়েছে ফাঁসির মঞ্চ। চারদিকে সশস্ত্র ব্রিটিশ পুলিশের কড়া পাহারা। জেলের বাইরে হাজার হাজার মানুষের ভিড়, যাঁরা এই বীর সন্তানকে শেষবারের মতো দেখতে এসেছেন। ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার সময়ও ক্ষুদিরামের হাঁটার গতি ছিল অত্যন্ত দৃঢ়। তাঁর ডান হাতে ছিল পবিত্র শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা।
ইতিহাস সাক্ষী আছে, ফাঁসির দড়ি যখন তাঁর গলায় পরানো হচ্ছিল, তখন তাঁর মুখে ভয়ের লেশমাত্র ছিল না। জল্লাদ যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি তাঁর শেষ ইচ্ছা কী? তখন ক্ষুদিরাম অত্যন্ত শান্ত কণ্ঠে বলেছিলেন যে, তিনি ভালো বোমা তৈরি করতে পারেন এবং মৃত্যুর আগে তিনি ভারতীয় যুবকদের সেই বোমা তৈরির কৌশল শিখিয়ে দিয়ে যেতে চান। ফাঁসি কার্যকর হওয়ার মুহূর্তে তিনি সমস্বরে উচ্চারণ করেছিলেন ‘বন্দে মাতরম্‌’। হাসিমুখে নিজের জীবন উৎসর্গ করে তিনি হয়ে উঠলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের কনিষ্ঠতম এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ শহিদ।
ক্ষুদিরাম বসুর এই আত্মবলিদান পরাধীন ভারতের বুকে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল। তাঁর মৃত্যুর পর বাংলার আনাচে-কানাচে, ঘরে ঘরে কবি ও চারণকবিরা গান বেঁধেছিলেন— "একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি / হাসি হাসি পরব ফাঁসি দেখবে ভারতবাসী।" এই গানটি তৎকালীন সময়ে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জাতীয় সংগীতে পরিণত হয়েছিল। তাঁতীরা ধুতি বা শাড়ির পাড়ে ‘ক্ষুদিরাম’ নামটি বুনে দিতে শুরু করেছিলেন, যা পরার জন্য যুবসমাজের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যেত।
রাজনীতিবিদ ও সমাজ সংস্কারকদের একাংশ যাঁরা এতদিন অহিংস বা নরমপন্থী আন্দোলনের ওপর ভরসা রাখছিলেন, ক্ষুদিরামের এই আত্মত্যাগ তাঁদের চিন্তাভাবনা নাড়িয়ে দিয়েছিল। তাঁর এই বীরত্ব প্রমাণ করে দিয়েছিল যে ভারতীয় তরুণেরা দেশের জন্য প্রাণ দিতে ভয় পায় না। অরবিন্দ ঘোষ থেকে শুরু করে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু— পরবর্তী প্রজন্মের সমস্ত মহান বিপ্লবীরাই ক্ষুদিরামের এই নিঃস্বার্থ দেশপ্রেম এবং নির্ভীক মানসিকতা থেকে সশস্ত্র লড়াইয়ের রসদ ও অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন।
আজ ভারত স্বাধীন। কিন্তু স্বাধীনতার এই দীর্ঘ লড়াইয়ের যে ভিতটি তৈরি হয়েছিল ক্ষুদিরামের মতো শত শত বিপ্লবীর রক্তের বিনিময়ে, তা আজ সোনালী অক্ষরে ইতিহাসের পাতায় খোদাই করা রয়েছে। মেদিনীপুরের সেই সাধারণ ঘরের সাধারণ কিশোরটি নিজের অসামান্য বলিদানের মাধ্যমে যেভাবে বিশ্বমঞ্চে ভারতবর্ষের আত্মসম্মান ও স্বাধিকারের দাবিকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা চিরকাল প্রতিটি ভারতবাসীর কাছে এক পরম গর্বের এবং চিরস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

আরও অবকাশ খবর