বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
জীবনযাপন

সমালোচনা শুনলে মন খারাপ আর নয়

প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৬
সমালোচনা শুনলে মন খারাপ আর নয়
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

বিশেষ প্রতিবেদন: চায়ের দোকান থেকে শুরু করে কর্পোরেট অফিসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর, সর্বত্রই একটা জিনিস নিখরচায় পাওয়া যায়। তা হলো সমালোচনা। আপনি ভালো কাজ করুন বা মন্দ, সমাজ আপনাকে নিয়ে কাটাছেঁড়া করবেই। অনেকেই অন্যের মুখের দুটো কটু কথা বা সমালোচনা শুনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। রাতে ঘুম উড়ে যায়, নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস কমতে শুরু করে। কিন্তু মনোবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্যের সমালোচনা শুনে মন খারাপ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। জীবনটা আপনার, তাই এর রাশ অন্যের হাতে ছেড়ে দেওয়া একেবারেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সহজ সরল ভাষায় বলতে গেলে, সমালোচনাকে ভয় না পেয়ে তাকে জীবনের এগিয়ে যাওয়ার সিঁড়ি বানাতে হবে।

মানুষ কেন অন্যের সমালোচনা করে, তা আগে বোঝা দরকার। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, যারা নিজের জীবনে সফল হতে পারে না বা যাদের নিজেদের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই, তারাই অন্যের খুঁত ধরতে ব্যস্ত থাকে। একে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘প্রজেকশন’। অর্থাৎ, নিজের ভেতরের হীনমন্যতা বা ব্যর্থতা ঢাকতে অন্য মানুষের ওপর দোষ চাপানো। কেউ যখন আপনার সমালোচনা করছে, তখন বুঝতে হবে আপনি এমন কিছু করছেন যা করার ক্ষমতা বা সাহস তার নেই। তাই সমালোচনাকে নিজের দুর্বলতা না ভেবে, নিজের সাফল্যের একটি পরোক্ষ প্রমাণ হিসেবে দেখাই ভালো।
সব সমালোচনা কিন্তু এক রকমের হয় না। এর মধ্যে মূলত দুটি ভাগ রয়েছে— গঠনমূলক এবং ধ্বংসাত্মক। গঠনমূলক সমালোচনা আসে আপনার হিতাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে। তারা আপনার ভুলভ্রান্তিগুলো ধরিয়ে দেয় যাতে আপনি নিজেকে আরও উন্নত করতে পারেন। এমন সমালোচনাকে সবসময় স্বাগত জানানো উচিত। এতে মন খারাপ করার কিছু নেই, বরং শেখার অনেক সুযোগ থাকে। অন্যদিকে, ধ্বংসাত্মক সমালোচনার একমাত্র উদ্দেশ্য থাকে আপনাকে নিচে নামানো বা মানসিকভাবে আঘাত করা। এই ধরনের মন্তব্যে কোনো যুক্তি থাকে না, থাকে কেবল ঈর্ষা ও বিদ্বেষ। এই দ্বিতীয় ধরনের সমালোচনাকে চিনে নিয়ে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।
মন ভালো রাখার সহজ কিছু উপায়
অন্যের কথায় নিজের মানসিক শান্তি নষ্ট হতে দেবেন না। যখনই কেউ আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলবে, তখন নিচের কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখুন:
•    নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন: আপনি নিজে ভালো করেই জানেন আপনার শক্তি এবং দুর্বলতা ঠিক কোন জায়গায়। কোনো তৃতীয় ব্যক্তির কথায় নিজের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করবেন না।
•    প্রতিক্রিয়া দেওয়া বন্ধ করুন: কেউ সমালোচনা করলেই সঙ্গে সঙ্গে রেগে গিয়ে উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনার নীরবতাই অনেক সময় সবচেয়ে বড় জবাব হতে পারে।
•    ইতিবাচক মানুষের সঙ্গে থাকুন: যারা আপনাকে ভালোবাসে এবং আপনার কাজের মূল্যায়ন করতে পারে, তাদের সঙ্গে বেশি সময় কাটান। নেতিবাচক মানসিকতার মানুষদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন।
•    কাজের মাধ্যমে উত্তর দিন: কথার লড়াইয়ে না গিয়ে নিজের কাজে আরও বেশি মনোনিবেশ করুন। আপনার চূড়ান্ত সাফল্যই সমালোচকদের মুখ বন্ধ করার জন্য যথেষ্ট।
ইতিহাসের পাতায় নজর রাখলে দেখা যায়, পৃথিবীর সমস্ত সফল মানুষকেই কোনো না কোনো সময় তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর— কেউই বাদ যাননি। তারা যদি সেই সময় মানুষের কথায় কান দিয়ে ঘরে বসে থাকতেন, তবে আজ আমরা তাদের পেতাম না। সমালোচনাকে তারা নিজেদের জেদ এবং শক্তির উৎস বানিয়েছিলেন। আপনার ক্ষেত্রেও বিষয়টি আলাদা নয়। কেউ যখন আপনার দিকে পাথর ছুড়বে, সেই পাথর দিয়ে নিজের সাফল্যের ইমারত তৈরি করুন। মন খারাপ করে সময় নষ্ট না করে, সেই সময়টাকে নিজের উন্নতির কাজে লাগান। দিনশেষে আপনার জীবন কেমন কাটবে, তা নির্ভর করবে সম্পূর্ণ আপনার নিজের ভাবনার ওপর, অন্যের সস্তা মন্তব্যের ওপর নয়।

আরও জীবনযাপনের খবর