কৈশোরে পর্নোগ্রাফি আসক্তি কেন? জানুন কারণ
নিজস্ব প্রতিনিধি: কৈশোরে সিনেমা বা টেলিভিশন অনুষ্ঠানে যৌন উদ্দীপক দৃশ্য দেখার অভ্যাসের সঙ্গে প্রাপ্তবয়সে পর্নোগ্রাফি আসক্তির একটি গভীর সংযোগ খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। গবেষণার মূল হাইপোথিসিস বা অনুমানকে সত্য প্রমাণ করে দেখা গেছে, মূলধারার বিনোদন মাধ্যমে দেখানো যৌন বিষয়বস্তু কিশোর-কিশোরীদের মানসিকতায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে।
প্রাপ্তবয়সে পর্নোগ্রাফি দেখার সবচেয়ে বড় নির্দেশক বা কারণ হলো কৈশোরেই (Adolescence) পর্নোগ্রাফি দেখার অভ্যাস থাকা।১৮ বছর বয়সের আগে যারা কখনো পর্নোগ্রাফি দেখেননি, তাদের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে—কৈশোরে সিনেমা বা টিভিতে "মাঝারি" বা "তীব্র" যৌন দৃশ্য দেখেছেন এমন ব্যক্তিরা প্রাপ্তবয়সে পর্নোগ্রাফির প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়েছেন।
কেন বাড়ছে এই প্রবণতা? গবেষকদের ব্যাখ্যা, সিনেমা-টিভিতে বারবার যৌন দৃশ্য দেখলে কিশোর-কিশোরীদের মনে হয় এগুলো খুবই সাধারণ এবং গ্রহণযোগ্য আচরণ। এটি তাদের মানসিকতাকে প্রভাবিত করে।
কৈশোর হলো নতুন কিছু অন্বেষণ করার বয়স। আবেগঘন গল্পের ভেতরে থাকা যৌন দৃশ্য তাদের মধ্যে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করে, যা পরে তাদের ইন্টারনেটে আরও স্পষ্ট (Explicit) উপাদান খুঁজতে প্ররোচিত করে।
প্রথম দিকে যে দৃশ্যগুলো উত্তেজক বা নিষিদ্ধ মনে হয়, বারবার দেখার ফলে তা একসময় চেনা বা সাধারণ মনে হতে থাকে। ফলে একই রকম উত্তেজনা বজায় রাখতে অনেকে আরও তীব্র বা স্পষ্ট যৌন উপাদানের (যেমন পর্নোগ্রাফি) দিকে ঝুঁকে পড়েন।
এটি একটি পারস্পরিক সম্পর্ক বা অ্যাসোসিয়েশন (Association), সরাসরি কোনো 'কারণ' বা 'গেটওয়ে' সম্পর্কের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। অর্থাৎ, সিনেমা দেখলেই পর্নোগ্রাফি দেখবে—এমনটি নিশ্চিত করে বলা যায় না।
অংশগ্রহণকারীদের বহু বছর আগের অভিজ্ঞতা মনে করে উত্তর দিতে হয়েছিল, যা 'রিকল বায়াস' বা স্মৃতির বিভ্রান্তির জন্ম দিতে পারে।বর্তমান যুগের চ্যালেঞ্জডিজিটাল বিপ্লবের এই যুগে ওটিটি (OTT) স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, সোশ্যাল মিডিয়া ক্লিপ, অ্যালগরিদমিক রেকমেন্ডেশন এবং হাতের স্মার্টফোনের কারণে বর্তমান প্রজন্ম পূর্ববর্তী প্রজন্মের তুলনায় অনেক সহজেই এই ধরনের কন্টেন্টের সংস্পর্শে আসছে। ফলে এই গবেষণা কিশোর-কিশোরীদের যৌন মনস্তত্ত্ব ও বিকাশের ওপর মিডিয়ার প্রভাব বুঝতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

