তৃণমূলের ৩ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ৪৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ করল ইডি
নিজস্ব প্রতিনিধি: চার্টার্ড বিমান এবং হেলিকপ্টার ব্যবহারের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি মামলায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি বেসরকারি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা মোট ৪৪০ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা ‘ফ্রিজ’ বা লেনদেন স্থগিত করার নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
এই মামলার সূত্রে একটি বেসরকারি বিমান পরিবহণ সংস্থার অফিস-সহ দেশের মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল ইডি। আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই বিপুল পরিমাণ টাকা ফ্রিজ করার ঘটনায় দেশীয় রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে গেছে।
ইডি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, মঙ্গলবার চালানো ওই তল্লাশি অভিযানে একাধিক চাঞ্চল্যকর ও আপত্তিকর নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেই সমস্ত নথি এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ প্রাথমিক স্তরে যাচাই করার পরেই তৃণমূলের ওই তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক ও নিয়মবহির্ভূত আর্থিক লেনদেনের হদিস পান তদন্তকারীরা। ইডি-র এক শীর্ষ আধিকারিকের বক্তব্য, চার্টার্ড বিমান ও হেলিকপ্টার ভাড়ার আড়ালে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা সাদা করা বা সন্দেহজনক উৎস থেকে টাকা আসার সুনির্দিষ্ট যোগসূত্র মেলাতেই আইন মেনে এই ফ্রিজ এর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই বিরাট পদক্ষেপের পরই পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। তৃণমূলের সাফ দাবি, দলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে বরাবর শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে। অনুদান সম্পর্কিত প্রতিটি লেনদেনের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) এবং আয়কর দফতরকে নিয়মিত এবং আইনি নিয়ম মেনেই জানানো হয়ে থাকে।
তৃণমূল বলছে, বিতর্কিত নির্বাচনী বন্ড (Electoral Bonds) সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যও ভারত সরকারের কাছে রয়েছে, কারণ এই বন্ড দেশের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI) ইস্যু করেছিল এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই তা জনসমক্ষে আনা হয়েছে। সম্পূর্ণ স্বচ্ছ নথি থাকা সত্ত্বেও ইডি-র এই পদক্ষেপ আসলে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং লোকসভা বা বিগত নির্বাচনের পর বিজেপির বিরোধীদের বেছে বেছে নিশানা করার নোংরা রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়।
তৃণমূলের ৪৪০ কোটিরও বেশি টাকা ফ্রিজ হওয়ার পর স্বভাবতই সরগরম হয়ে উঠেছে পদ্ম শিবিরও। বিজেপির দাবি, আইন আইনের পথেই চলছে, এখানে কোনো রাজনীতি নেই। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই টাকার উৎস কী, তা তৃণমূলকে স্পষ্ট করতে হবে। অন্যদিকে, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে এই জট কাটানোর ইঙ্গিত দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। সব মিলিয়ে, বিমান-হেলিকপ্টার দুর্নীতির জল এখন কতদূর গড়ায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

