মৃত্যুর ৫ মাস পর শেষকৃত্য, সঙ্গে নাতনিরও ছোট কফিন
নিজস্ব প্রতিনিধি: আমেরিকার যুদ্ধবিমান এবং ইজরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হওয়ার দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় পর, অবশেষে শুরু হল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর রাষ্ট্রীয় শেষ কৃত্যানুষ্ঠান। আজ, শনিবার সকাল থেকে রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় এই প্রবীণ নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হয়েছেন লক্ষ লক্ষ কালো পোশাক পরিহিত মানুষ।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখে ৮৬ বছর বয়সে খামেনেইর মৃত্যুর পর থেকেই এক নজিরবিহীন শোকে ডুবে রয়েছে ইরান। কিন্তু এতদিন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
শনিবার সকালে কড়া সুরক্ষার মধ্যে যখন খামেনেইয়ের কফিন অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে আসা হয়, তখন এক চরম আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ইরানের জাতীয় পতাকায় ঢাকা কফিনের উপর রাখা ছিল তাঁর ঐতিহ্যবাহী কালো পাগড়িটি। তবে উপস্থিত শোকস্তব্ধ জনতার চোখ আটকে যায় খামেনেইয়ের কফিনের পাশে রাখা আরও কয়েকটি মরদেহের দিকে।
ওইদিনের হামলায় নিহত তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের কফিনও পাশাপাশি রাখা হয়েছিল। যার মধ্যে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ছিল খামেনেইয়ের মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মহম্মদী গোলপায়েগানির ছোট্ট কফিনটি। কফিনের পাশে রাখা শিশুটির ছবি দেখে উপস্থিত বহু মানুষ আর চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, তেহরানে তিন দিনব্যাপী এই শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠান চলবে। এরপর আগামী সপ্তাহে শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র স্থান ইরাকের নাজাফ ও কারবালা হয়ে আগামী বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে খামেনেইকে সমাধিস্থ করা হবে।
এই শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দিতে ইতিমধ্যেই ভারত-সহ বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছেছেন।

