দেশ
বদলাচ্ছে সমীকরণ, উত্তপ্ত হতে পারে বাদল অধিবেশন
প্রকাশিত: ৩ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলেছে সংসদের বহু প্রতীক্ষিত বাদল অধিবেশন। তবে এবারের অধিবেশন শুরু হচ্ছে সম্পূর্ণ এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে। গত এপ্রিল মাসে সংসদের শেষ অধিবেশন শেষ হওয়ার পর থেকে দেশের রাজনীতিতে ঘটে গিয়েছে একাধিক বড়সড় ওলটপালট। দলবদল, শাসক ও বিরোধী শিবিরের জোটের পুনর্বিন্যাস, সংখ্যার অঙ্কের নাটকীয় রদবদল— সব মিলিয়ে চার সপ্তাহের এই অধিবেশন যে চরম উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।
প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট পর্যন্ত চলবে সংসদের এই বাদল অধিবেশন। চার সপ্তাহের এই সময়সীমার মধ্যে মোট ১৯টি কার্যদিবস বা অধিবেশন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এবারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো লোকসভার ভেতরের সংখ্যার সমীকরণ। একাধিক আঞ্চলিক দলে ভাঙন এবং পুরোনো জোটের ভাঙনের ফলে সংসদের শক্তির ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে গিয়েছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে দেশের কয়েকটি অগ্রগণ্য বিরোধী দলে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন ধরেছে। অন্যদিকে মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার একাংশ দলত্যাগ করেছে। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ ভারতের অন্যতম বড় শক্তি ডিএমকে এবং কংগ্রেসের রাজনৈতিক বিচ্ছেদ বিরোধী শিবিরের মেরুদণ্ড অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছে। এই সব রদবদলের জেরে লোকসভায় শাসকদল এনডিএ (NDA)-র অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে, অন্যদিকে ধাক্কা খেয়েছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট।
রাজনৈতিক মহলের নজর এখন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সিদ্ধান্তের দিকে। অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই স্পিকারকে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফয়সালা করতে হতে পারে। প্রথমত, তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের একটি নতুন দল হিসেবে একীভূত হওয়ার আবেদন। দ্বিতীয়ত, উদ্ধব শিবসেনার ৬ জন সাংসদের একনাথ শিন্ডের শিবসেনায় যোগ দেওয়ার আইনি বিষয়। এই দুই দলত্যাগের উপর স্পিকারের সিদ্ধান্ত আগামী দিনে সংসদের অন্দরে বিরোধীদের রণকৌশল কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারণ করবে। সব মিলিয়ে, আগামী ২০ জুলাই থেকে সংসদের দুই কক্ষেই শাসক ও বিরোধীদের জোর টক্কর দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।

