দেশ
কাশ্মীরি পন্ডিত নার্স সরলা ভাট হত্যার দীর্ঘ ৩৬ বছর পর চার্জশিট পেশ
প্রকাশিত: ৩ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ১৯৯০ সালের ১৮ এপ্রিল শ্রীনগরে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের বিশেষ শাখা ‘স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি’ (SIA) অবশেষে জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট (JKLF) প্রধান ইয়াসিন মালিকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছে।
৩৬ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা অবসান হল। কাশ্মীরি পন্ডিত নার্স সরলা ভাট হত্যা মামলায় ইয়াসিন মালিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে কাশ্মীরি পন্ডিত নার্স সরলা ভাট হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ৩৬ বছর পর আদালতে চার্জশিট পেশ করল স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (SIA)। ১৯৯০ সালের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট (JKLF)-এর প্রধান ইয়াসিন মালিকসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে এই চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার এবং সমগ্র কাশ্মীরি পন্ডিত সম্প্রদায়ের কাছে পুলিশের এই পদক্ষেপ ন্যায়বিচারের পথে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৯৮৯ সালে কাশ্মীর উপত্যকায় সশস্ত্র উগ্রপন্থা শুরু হওয়ার পর কাশ্মীরি পন্ডিতদের লক্ষ্য করে যে সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বা 'টার্গেটেড কিলিং' শুরু হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম প্রথম শিকার ছিলেন ২৭ বছর বয়সী সরলা ভাট। তিনি শ্রীনগরের ‘শের-ই-কাশ্মীর ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস’ (SKIMS)-এ নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৯০ সালের ১৮ এপ্রিল হাসপাতাল চত্বর থেকেই তাঁকে অপহরণ করে উগ্রপন্থীরা। এরপর ওমের কলোনি, মালবাগ এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাঁর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় এবং শেষে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে গুলি করে তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তবে এসআইএ-র পেশ করা এই চার্জশিটে ধর্ষণের কোনো উল্লেখ নেই।পাঁচ অভিযুক্তের বর্তমান পরিস্থিতিতদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, এই মামলায় যে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ইয়াসিন মালিকসহ মাত্র দুইজন বর্তমানে জীবিত আছেন। এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি গুলি চালানো প্রধান উগ্রপন্থী খুরশিদ আহমেদ চালকু বর্তমানে পলাতক এবং সে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) আত্মগোপন করে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেই হুলিয়া জারি ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে এসআইএ।কাশ্মীরি পন্ডিতদের গণপ্রস্থানইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৮৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বিজেপি নেতা ও আইনজীবী পন্ডিত টিকা লাল তাপলু এবং পরবর্তীতে সাবেক বিচারক নীলকণ্ঠ গাঞ্জুর হত্যার পর সরলা ভাটের হত্যাকাণ্ড কাশ্মীরি পন্ডিতদের মনে চরম ভীতির সঞ্চার করেছিল। এই ধারাবাহিক টার্গেটেড কিলিংয়ের জের ধরেই কাশ্মীর উপত্যকা থেকে পন্ডিতদের গণপ্রস্থান বা ঐতিহাসিক গণঅভিবাসন শুরু হয়। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সহিংসতার জেরে ২০১৪ সালের মধ্যে ৬০,৪৫২ জনেরও বেশি কাশ্মীরি পন্ডিত জম্মুসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শরণার্থী হিসেবে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে বাধ্য হন।
২০২০ সালে নতুন করে এই মামলার পুনস্তদন্ত শুরু করার পর, দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর পুলিশের এই আইনি পদক্ষেপ উপত্যকার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

