দেশ
ভারতের হাত ধরে ক্রিকেটে হাতেখড়ি ইজরায়েলের
প্রকাশিত: ৯ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: নরেন্দ্র মোদী ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর হাত ধরে ভারত এবং ইজরায়েলের (India-Israel) কূটনৈতিক সখ্যতা গত কয়েক বছরে এক নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের একে অপরের ভূয়সী প্রশংসা এখন চেনা ছবি। তবে এবার সেই গভীর দ্বিপাক্ষিক ‘বন্ধুত্ব’ শুধু কূটনীতি বা প্রতিরক্ষা খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, তা সরাসরি ছড়িয়ে পড়ছে বাইশ গজে। ভারতকে মেন্টর বা পথপ্রদর্শক বানিয়ে এবার এশীয় ক্রিকেটের নতুন শক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ।
ইজরায়েলের ক্রীড়া সংস্কৃতি মূলত অলিম্পিককে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। যে সব খেলা অলিম্পিকের অংশ, সেগুলির দিকেই এতদিন নজর ছিল দেশটির। তবে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে তেল আভিভ।
ইজরায়েলের ক্রীড়া ইতিহাসে ক্রিকেটের ভাঁড়ার কার্যত শূন্য। দেশে কোনও পেশাদার পরিকাঠামো বা ক্রিকেটীয় ঐতিহ্য নেই বললেই চলে। ফলে একেবারে শূন্য থেকে নতুন করে ক্রিকেটীয় যাত্রা শুরু করতে হচ্ছে তাদের। এই নতুন পথচলায় ইজরায়েলকে ক্রিকেট শেখানোর এবং পরিকাঠামো গড়ে তোলার দায়িত্ব নিতে চলেছে ভারত। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় ইজরায়েলি তরুণদের এই খেলায় দক্ষ করে তোলাই মূল লক্ষ্য।
রাজনৈতিক ও কৌশলগত স্তরে দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা এই ক্রীড়া চুক্তিকে তরান্বিত করেছে। ভারতের ক্রিকেটীয় পরাশক্তিকে ব্যবহার করে ইজরায়েল বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিতে চায়। ভারতের সহায়তায় ইজরায়েলে ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও অ্যাকাডেমি তৈরি, ভারতীয় কোচদের সেখানে পাঠানো এবং ইজরায়েলি খেলোয়াড়দের ভারতের মাটিতে উন্নতমানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা আইসিসি (ICC) ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের প্রসারে জোর দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের হাত ধরে ইজরায়েলের মতো একটি দেশের ক্রিকেটে আগমন শুধু এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) পরিধিকেই বাড়াবে না, বরং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া কূটনীতিতেও এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

