দেশ
পরকীয়া প্রমাণে স্বামীর ফোনের কল রেকর্ড ও হোটেলের বিলই যথেষ্ট
প্রকাশিত: ৯ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ পরকীয়া প্রমাণে স্বামীর ফোনের কল রেকর্ড ও হোটেলের বিলই যথেষ্ট, গোপনীয়তার অধিকারের (Right to Privacy) অজুহাতে এই তথ্যপ্রমাণ আড়াল করা যাবে না বলে ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৮ সালে পরকীয়াকে ফৌজদারি অপরাধের তালিকা থেকে মুক্ত করার আট বছর পর, বৈবাহিক বিবাদের মামলায় এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মনমোহন এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় স্বামীর পরকীয়া প্রমাণ করতে স্ত্রী তাঁর মোবাইল কল রেকর্ড (CDR) এবং হোটেল বুকিংয়ের বিবরণী দেখতে চাইলে তা দেখার অনুমতি দিতে হবে।
অভিযুক্ত স্বামী দাবি করেছিলেন যে আদালতের মাধ্যমে তাঁর এই ব্যক্তিগত নথি প্রকাশ করা সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে ‘গোপনীয়তার অধিকারের’ পরিপন্থী। তবে শীর্ষ আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দিল্লি হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে এবং জানায়, বৈবাহিক সম্পর্কের বিবাদে ন্যায়ের স্বার্থে এই অধিকার পরম (Absolute) হতে পারে না।
ফ্যামিলি কোর্টের নির্দেশ মেনে টেলিকম সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট হোটেলকে এই সমস্ত ডিজিটাল প্রমাণ বন্ধ খামে (Sealed Cover) আদালতে জমা দেওয়ার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তাকেই মান্যতা দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
মামলাটি এক দম্পতির বৈবাহিক বিবাদকে কেন্দ্র করে। স্ত্রী তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতা ও পরকীয়ার অভিযোগ এনে পারিবারিক আদালতে ডিভোর্সের মামলা দায়ের করেন। ওই মহিলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল, তাঁর স্বামী অন্য এক মহিলার সঙ্গে জয়পুরের একটি নামী হোটেলে (Hotel Fairmont) রাত্রিযাপন করেছেন। প্রমাণ হিসেবে তিনি হোটেলের নির্দিষ্ট রুমের বুকিং ডিটেলস ও পেমেন্টের তথ্য এবং স্বামীর দুটি মোবাইল নম্বরের কল রেকর্ড দাবি করেন। হোটেল ও টেলিকম সংস্থা তা দিতে অস্বীকার করলে বিষয়টি আইনি লড়াইয়ে রূপ নেয়।
এর আগে ২০১৮ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৮ বছরের পুরোনো ৪৯৭ ধারা বাতিল করে জানিয়েছিল, পরকীয়া কোনও শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ নয়।
পরকীয়া ফৌজদারি অপরাধ না হলেও, হিন্দু বিবাহ আইন (Hindu Marriage Act, 1955) অনুযায়ী তা এখনও বিবাহবিচ্ছেদের (Divorce) অত্যন্ত জোরালো এবং বৈধ একটি কারণ হিসেবে গণ্য হয়।
সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে পারিবারিক আদালতে পার্টনারের প্রতারণা বা ডিজিটাল প্রমাণ জোগাড় করা এবং তা আদালতে পেশ করা প্রতারিত স্ত্রীদের জন্য অনেকটাই সহজ ও আইনিভাবে সুরক্ষিত হলো।

