জোর করে মহিলাদের দেহব্যবসায় নামানোর অভিযোগে ধৃত
নিজস্ব প্রতিনিধি: রেল স্টেশন সংলগ্ন ব্যস্ত এলাকাকে নিরাপদ আস্তানা বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রমরমিয়ে চলছিল এক সংগঠিত নারী পাচার ও দেহব্যবসার বড়সড় চক্র। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে থানের কল্যাণ রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় হানা দিয়ে সেই অপরাধের জাল ছিন্ন করল পুলিশ। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে চক্রের মূল পান্ডা তথা মূল অভিযুক্ত হোনমানেকে।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রায় ২০ জন অসহায় মহিলাকে জোরপূর্বক, প্রলোভন দেখিয়ে এবং নানাবিধ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এই নিষিদ্ধ পল্লীর অন্ধকূপে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারী পুলিশ কর্তাদের স্পষ্ট দাবি— উদ্ধার হওয়া বা এই চক্রের খপ্পরে পড়া মহিলারা কেউই স্বেচ্ছায় এই অন্ধকার পেশায় আসেননি। তাঁদের অনেককে ভিন রাজ্য থেকে কাজ দেওয়ার নাম করে নিয়ে এসে আটকে রাখা হয়েছিল। এরপর তাঁদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে জোর করে এই অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হতো।
মূল অভিযুক্ত হোনমানে এই মহিলাদের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে মোটা টাকার ব্যবসা ফাঁদছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২১শে ফেব্রুয়ারি থানের মহাত্মা ফুলে চক থানায় এই সংক্রান্ত প্রথম মামলাটি দায়ের করা হয়। শুরুতে সাধারণ অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইনের (ITPA) অধীনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। তবে তদন্তের জাল যত বিস্তৃত হয়েছে, অপরাধের গভীরতা ও গুরুত্ব দেখে তাজ্জব বনে গেছেন তদন্তকারীরা। তাঁরা বুঝতে পারেন যে, এটি কোনো সাধারণ স্থানীয় অপরাধ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে এক সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক বা আন্তঃরাজ্য নারী পাচার চক্র। যার ফলে অপরাধের গুরুত্ব বুঝে এখন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও কড়া এবং অ-জামিনযোগ্য ধারা যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন। ধৃত হোনমানেকে জেরা করে এই চক্রের সঙ্গে আর কোনো প্রভাবশালী নাম বা আন্তর্জাতিক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে থানে পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া মহিলাদের আপাতত নিরাপদ আশ্রয়ে (Safe Home) পাঠানো হয়েছে এবং তাঁদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

