হট টপিক
বর্ষায় লোকালয়ে সাপের উপদ্রব: ঘরবাড়িতে বিষাক্ত ছোবল এড়াতে কী করবেন?
প্রকাশিত: ২২ জুন, ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদন: তীব্র দাবদাহের পর বর্ষার আগমন মনকে স্বস্তি দিলেও, এই মনোরম পরিবেশের আড়ালেই ওত পেতে থাকে এক মারাত্মক বিপদ। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে যখন একটানা বৃষ্টিতে মাঠ-ঘাট, খাল-বিল, সাপের চেনা গর্ত ও প্রাকৃতিক বাসস্থান জলে ভেসে যায়, তখনই শুরু হয় আসল সমস্যা। জলমগ্ন চেনা আস্তানা ছেড়ে একটু শুকনো মাটির খোঁজে বিষাক্ত সাপেরা লোকালয়ে চলে আসে এবং মানুষের ঘরে, বিছানায় বা আসবাবপত্রের ফাঁকে আশ্রয় নিতে শুরু করে। যার জেরে বর্ষাকালে সর্পদংশনের ঘটনা বহুগুণ বেড়ে যায়। এই মরসুমে সুরক্ষিত থাকতে কী ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন, তা জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
সাপের উপদ্রব এড়াতে আগাম সতর্ক থাকতে ঘরের আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল এবং আগাছা নিয়মিত কেটে পরিষ্কার রাখুন। ঘরের দরজা, জানলার নিচের ফাঁকা অংশ বা দেওয়ালে কোনও গর্ত থাকলে তা দ্রুত মেরামত করুন। বাড়ির উঠোনে বা বারান্দায় খড়ের গাদা, কাঠ বা ইটের স্তূপ জমিয়ে রাখবেন না। এগুলি সাপের লুকিয়ে থাকার প্রিয় জায়গা। ঘরের কোণে বা প্রবেশদ্বারে কার্বলিক অ্যাসিডের বোতল মুখ খুলে রেখে দিলে সাপের উপদ্রব অনেকটাই কমে। রাতে অন্ধকারে ঘরের বাইরে বেরোলে অবশ্যই টর্চলাইট বা জোরালো আলো ব্যবহার করুন এবং লাঠি দিয়ে মাটিতে শব্দ করতে করতে হাঁটুন। বর্ষার রাতে মেঝেতে ঘুমানো একেবারেই এড়িয়ে চলুন। খাটে ঘুমালেও চারদিক ভালো করে গুঁজে মশারি টাঙিয়ে ঘুমান। কারণ মশারি কেবল মশা নয়, সাপের প্রবেশও রুখে দেয়।
সাপে কামড়ালে কী করবেন? সাপে কামড়ালে আতঙ্কিত না হয়ে রোগীকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। কারণ ভয় পেলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় এবং বিষ দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত অঙ্গটি বা হাত-পা একদম নাড়াচাড়া করতে দেবেন না। প্রয়োজনে লাঠি বা কাঠ দিয়ে হাত/পা বেঁধে স্থির রাখুন। ওঝা, গুণিন বা ঝাড়ফুঁকের চক্করে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে রোগীকে সরাসরি নিকটবর্তী ব্লক হাসপাতাল বা জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। একমাত্র ‘অ্যান্টি ভেনাম সিরাম’ (AVS)-ই রোগীর প্রাণ বাঁচাতে পারে।
কী করবেন না? ক্ষতস্থানে কোনও ধরনের ব্লেড বা ছুরি দিয়ে কাটবেন না বা চুষে বিষ বের করার চেষ্টা করবেন না। দংশনের জায়গার ওপরে খুব শক্ত করে দড়ি বা তার দিয়ে বাঁধবেন না, এতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে পচন ধরতে পারে। কাপড়ের চওড়া বাঁধন আলতো করে দিতে পারেন।
গ্রামীণ বা আধা-শহুরে এলাকায় বর্ষার এই দিনগুলিতে সামান্য অসচেতনতাই বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই সাপের হাত থেকে বাঁচতে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

