অশোভন বাক্যবাণ!
এক কৃষক তার প্রতিবেশী সম্পর্কে খুব নিন্দামন্দ করছিল। ভুল বুঝতে পেরে সে গেল যাজকের কাছে ক্ষমা চাইতে। যাজক তাকে একবস্তা পালক নিয়ে শহরের মাঝে রাস্তায় ঢেলে দিয়ে আসতে বললেন। কৃষক তাই করলো। কিছু পরে যাজক কৃষককে ঐ রাস্তা থেকে পালকগুলি বস্তায় ভরে আনতে বললেন। কৃষক চেষ্টা করল কিন্তু দেখা গেল সব পালকই উড়ে ছড়িয়ে গেছে। খালি বস্তা নিয়ে সে যখন ফিরে এল তখন যাজক তাকে বললেন, তোমার কথাগুলি ঐ পালকের মতো। তুমি সহজেই বলে ফেলেছ, কিন্তু আর ফিরিয়ে নিতে পারবে না।যে ব্যক্তি মনে যা আসে তাই বলেন, শেষ পর্যন্ত তাকে তাই শুনতে হয় যা তিনি পছন্দ করেন না। বাক্য ব্যবহারে কৌশলী হতে হয়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে যত মানুষ আহত হয়েছে তার চেয়ে বেশি মানুষ আঘাত পেয়েছে অশোভন বাক্যবাণে। মূর্খ না ভেবে কথা বলে, আর বিজ্ঞ ব্যক্তি চিন্তা না করে কথা বলেন না। এখানেই প্রজ্ঞা ও মূর্খতার মধ্যে তফাৎ। বেশি কথা বললেই ভাবের প্রকাশ ঘটে না। কম কথা বলেও বেশি প্রকাশ করা যায়। ভরা কলসী আওয়াজ করে না। হৃদয়কে পবিত্র কর, তোমার মুখের ভাষাও পরিচ্ছন্ন হবে। মুখের কথাই তোমার হৃদয়ের জানলা। সেই জানালা দিয়েই দেখা যাবে ভিতরে তুমি কোন্ আলো জ্বেলেছ—ঘৃতের প্রদীপ না কেরোসিনের কুপি। ভগবান যীশুকে যারা শয়তানের দোসর বলেছিল যীশু তাদের বলেছিলেন—তোমরা সাপের বংশ। তোমরা নিজেরাই বিষ, কী করে তোমরা মধু ক্ষরণ করবে? তোমাদের হৃদয়ে বিষ সঞ্চিত আছে, তাই তোমরা মুখ দিয়ে বিষই ছড়াবে । যীশু আরো বললেন, যারা কোন কিছু চিন্তা না করে গর্হিত কথা বলে বেড়ায়, জেনো শেষ বিচারের দিনে প্রত্যেকটি কথার জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে, তোমাদের কথাতেই তোমাদের পতনের বীজ লুকিয়ে আছে। তুমি উচ্চকণ্ঠে যা খুশি বলে যেতে পারো, মনে রেখো আর কেউ না শুনুক, ঈশ্বর শুনছেন। তুমি অসতর্ক হতে পারো, ঈশ্বর উৎকর্ণ। তিক্ত মনোভাব নিয়ে কথা বললে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। চিরকাল কারো সমান যায় না এটা ভুলে যাই আমরা।

