সর্বশেষ খবর
শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবারে মহাদেবকে তুষ্ট করার সহজ বিধি
প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদনঃ সনাতন ধর্মে শ্রাবণ মাস হল দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনার শ্রেষ্ঠ সময়। পুরাণে বলা হয়েছে, এই পবিত্র মাসে ভোলানাথকে নিষ্ঠাভরে স্মরণ করলে ভক্তের সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ হয়। বিশেষ করে শ্রাবণের সোমবারগুলি শিব পুজোর জন্য অত্যন্ত মাহাত্ম্যপূর্ণ। এই বছর শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবারে কীভাবে ঘরে বা মন্দিরে মহাদেবের পুজো করবেন, কোন উপাচারে সন্তুষ্ট হবেন শিবঠাকুর, রইল তার বিস্তারিত নির্দেশিকা।
সোমবার ভোরে ব্রহ্মমুহূর্তে শয্যাত্যাগ করা উচিত। স্নানের জলে সামান্য গঙ্গার জল মিশিয়ে স্নান সেরে নেওয়া ভালো। পুজোয় বসার আগে পরিষ্কার সাদা বা লাল রঙের বস্ত্র পরিধান করুন। মহাদেবের পুজোয় কালো পোশাক এড়িয়ে চলাই শাস্ত্রসম্মত। স্নানের পর শিবলিঙ্গের সামনে হাত জোড় করে সারাদিন উপবাস বা ফলারের ব্রত সংকল্প করুন।
মহাদেব অত্যন্ত অল্পেই সন্তুষ্ট হন, তাই তাঁকে ‘আশুতোষ’ বলা হয়। পুজোর জন্য থালায় গুছিয়ে নিন— মসৃণ ও নিখুঁত বেলপাতা (অন্তত তিনটি পাতা যুক্ত), আকন্দ ফুল, ধুতুরা ফুল ও ফল, নীলকণ্ঠ ফুল এবং শ্বেত চন্দন। নৈবেদ্যর জন্য মরশুমী ফল, মিষ্টি বা বাতাসা এবং আরতির জন্য ধূপ, ঘিয়ের প্রদীপ ও কর্পূর সংগ্রহ করে রাখুন।
শিব পুজোর সবচেয়ে প্রধান অঙ্গ হল জল ও দুধের অভিষেক। মনে রাখবেন, তামার পাত্রে জল দেওয়া শুভ হলেও, তামার পাত্র থেকে কখনও শিবলিঙ্গে দুধ ঢালবেন না। দুধের জন্য পিতল বা স্টিলের পাত্র ব্যবহার করুন। প্রথমে পরিষ্কার ঘটি থেকে গঙ্গার জল বা বিশুদ্ধ জল দিয়ে শিবলিঙ্গটি স্নান করান। এরপর কাঁচা গরুর দুধ, টক দই, ঘি, মধু এবং চিনি দিয়ে তৈরি পঞ্চামৃত একে একে শিবলিঙ্গের ওপর অর্পণ করুন। পঞ্চামৃত নিবেদনের পর পুনরায় পরিষ্কার জল ঢেলে শিবলিঙ্গটি ভালো করে ধুয়ে একটি পরিষ্কার সুতি কাপড় দিয়ে মুছে নিন।
অভিষেক শেষে শিবলিঙ্গের গায়ে শ্বেত চন্দন বা অষ্টগন্ধা দিয়ে তিনটি রেখা বা ‘ত্রিপুণ্ড্র’ আঁকুন। শিব পুজোয় কখনও সিঁদুর বা হলুদ ব্যবহার করবেন না। এরপর বেলপাতার মসৃণ অংশে চন্দন মাখিয়ে মহাদেবকে অর্পণ করুন। মনে রাখবেন, বেলপাতা যেন ছেঁড়া বা পোকাখাওয়া না হয়। এরপর আকন্দ ও ধুতুরা ফুল অর্পণ করে ধূপ-দীপ জ্বালিয়ে ফল ও মিষ্টির ভোগ নিবেদন করুন।
সব শেষে পূজার আসনে সোজা হয়ে বসে শান্ত মনে অন্তত ১০৮ বার "ওঁ নমঃ শিবায়" মহামন্ত্রটি জপ করুন। সম্ভব হলে ‘মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র’ পাঠ করা এই দিনে অত্যন্ত কল্যাণকর। জপ শেষে কর্পূর জ্বালিয়ে ভক্তিভরে মহাদেবের আরতি সম্পন্ন করুন এবং নিজের জানা-অজানা ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে প্রণাম জানান।

