সর্বশেষ খবর
শান্তিনিকেতনে ধুন্ধুমার, সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে অনশনকে ঘিরে রণক্ষেত্র বিশ্বভারতী
প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিনিকেতন: শান্তিনিকেতনে ফের অশান্তির বাতাবরণ। লাদাখের পরিবেশবিদ, শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন ও অনশনকে সমর্থন করে বিশ্বভারতী চত্বরে আয়োজিত ২৪ ঘণ্টার প্রতীকী অনশন কর্মসূচিকে ঘিরে শনিবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে অনশনরত ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ নাগরিক এবং অন্যদিকে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP) সমর্থকদের মধ্যে বচসা, ধস্তাধস্তি ও মারধরের ঘটনায় রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় শান্তিনিকেতন। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় একাধিক ছাত্রছাত্রী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার সকালে। এদিন সকাল ১০টা থেকে শান্তিনিকেতনের হিন্দি ভবনের সামনে সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ২৪ ঘণ্টার প্রতীকী অনশন শুরু করেন একদল ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয় সাধারণ নাগরিক। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য ছিল, জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি এবং দিল্লিতে সোনম ওয়াংচুকের চলমান অনশনের প্রতি সমর্থন জানাতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। তাঁদের দাবি, এই আন্দোলন ছিল সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। কোনো রাজনৈতিক দলের পতাকা ছাড়াই রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা, পোস্টার ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানো হচ্ছিল সেখানে।
অভিযোগ, অনশন কর্মসূচি চলাকালীন হঠাৎই সেখানে চড়াও হন একদল এবিভিপি সমর্থক। প্রতিবাদকারীদের পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপরই দু'পক্ষের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় শুরু হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির রূপ নেয়। অনশনকারীদের নির্মমভাবে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার জেরে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রী জখম হন।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবিভিপি নেতৃত্ব। গেরুয়া শিবিরের পালটা দাবি, অনশনকারীরা আসলে সাধারণ ছাত্রছাত্রী নন। শিক্ষার স্বার্থে নয়, বরং এই অনশন কর্মসূচির আড়ালে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও দলের মদত ছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শান্তিনিকেতন জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শান্তিনিকেতনের এই হিংসাত্মক ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী ও আশ্রমিকদের একাংশ।

