সর্বশেষ খবর
আমতলায় অভিষেকের কার্যালয়ে বুলডোজার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা
প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুর: নোটিস দেওয়া হয়েছিল আগেই। অবশেষে শনিবার সকালে ব্যাপক পুলিশি পাহারায় বুলডোজার চলল ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার ‘কার্যালয়ে’। পাঁচতলা এই বহুতলটিকে আগেই ‘বেআইনি’ বলে ঘোষণা করেছিল জেলা প্রশাসন। এদিন সকাল থেকেই বিশাল পুলিশ বাহিনী ও জেসিবি নিয়ে ভাঙার কাজ শুরু করেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। এলাকা জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী।
প্রশাসনের এই আকস্মিক ও বড়সড় অ্যাকশন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তবে নিজের কার্যালয় ভাঙা প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত ডায়মন্ডহারবারের সাংসদের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নীরবতা বজায় রেখেছে কালীঘাটও। তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করতে ছাড়েনি শাসকদলের অন্দরে থাকা ঋতব্রতপন্থীরা। বেশ কিছুদিন ধরেই ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। এদিন আমতলার ঘটনা সেই আগুনে আরও ঘি ঢালল। ঋতব্রত শিবিরে নাম লেখানো রাজ্যের এক প্রাক্তন মন্ত্রী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি সরাসরি কটাক্ষ করে বলেন, “এটিই আসলে ডায়মন্ডহারবার মডেলের আসল রূপ। এতদিন ধরে বেআইনিভাবে এই বহুতলটি খাড়া করে রাখা হয়েছিল।”
প্রশাসনের দাবি, আইন মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। ভবনটির নির্মাণে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের নিয়ম ভাঙা হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও কার্যালয়টি না সরানোয় এই ভাঙার সিদ্ধান্ত। তবে লোকসভা ভোটের আগে খোদ দলের হেভিওয়েট নেতার কার্যালয় ভাঙার এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। বিরোধীরাও এই নিয়ে প্রশাসনের অন্দরের সমীকরণ খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে আমতলার এই বুলডোজার অ্যাকশন এখন বঙ্গ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।

