অরণ্য মৃত্যুকাণ্ড: অ্যানেস্থেশিয়ার ওষুধের উৎস অধরাই, জেল হেফাজতে চিকিৎসক
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ফাইমোসিসের অস্ত্রোপচারের পর চার বছরের শিশু অরণ্য রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় ধৃত অ্যানেস্থেটিস্ট বনজকুমার দে-কে এ বার বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিল আদালত। পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ায় শুক্রবার ধৃতকে বর্ধমানের সিজেএম আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। সওয়াল-জবাব শোনার পর ভারপ্রাপ্ত সিজেএম ধৃত চিকিৎসককে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগামী ২১ অক্টোবর তাঁকে আবার আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ আদালতে জানিয়েছে, ধৃত অ্যানেস্থেটিস্টকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও শিশুটিকে অজ্ঞান করার জন্য ব্যবহৃত অ্যানেস্থেসিয়ার ওষুধ তিনি কোথা থেকে এনেছিলেন, সেই উৎস সম্পর্কে কোনও তথ্য দেননি। নার্সিংহোমের অপারেশন থিয়েটারের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, ওই ওষুধ চিকিৎসক নিজেই নিয়ে এসেছিলেন। এ ছাড়া, অস্ত্রোপচারের পর অরণ্যের জ্ঞান ফেরার আগেই অ্যানেস্থেটিস্ট নবাবহাট মোড়ের নার্সিংহোম থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন বলে তথ্য মিলেছে। রোগীর শারীরিক অবস্থা নিশ্চিত না করে এবং যথাযথ ভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর না করে তিনি চলে গিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
গত ২ সেপ্টেম্বর অরণ্যের মৃত্যুর ঘটনায় নার্সিংহোমের দুই মালিক ও চিকিৎসক-সহ বেশ কয়েক জন ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্গাপুরের আরএফএসএল থেকে রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও হাতে না আসায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বোর্ডের সদস্যরা চূড়ান্ত মতামত দিতে পারেননি। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকা অভিযুক্তদের আবার পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

