আউশগ্রামের শিবাক্ষ্যা পুজো ঘিরে উন্মাদনা
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমানঃ আউশগ্রাম ২ ব্লকের অমরারগড় গ্রামের শিবাক্ষ্যা পুজোর ইতিহাস প্রাচীন। প্রাচীন এই পুজোয় রয়েছে একাধিক বিশেষত্ব। গ্রামের রায় পরিবারের কুলদেবীর এই পুজো ঘিরে এলাকায় মহোৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়।
কথিত আছে, রানী অমরাবতী কাটোয়ায় গঙ্গা স্নান করতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় স্বপ্নাদেশ পান দেবী শিবাক্ষ্যার। তিনি এই মূর্তি তিনি নিয়ে আসেন। রাজা মহেন্দ্র এই মূর্তিটি অমরারগড়ে প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছিলেন। মহেন্দ্র ছিলেন ভল্লু রাজার বংশধর।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, এক সময় জঙ্গলে পরিপূর্ণ এই আউশগ্রামে সুরাটের কোনও এক রাজা সপরিবারে তীর্থভ্রমণে বেড়িয়ে নাকি আটকে পড়েছিলেন। বনের মধ্যেই সন্তান সম্ভবা রানীর প্রসব যন্ত্রণা ওঠে। রানী জন্ম দিলেন এক পুত্রসন্তানের। কিন্তু জন্মের পর সেই সদ্যোজাত কোন শব্দ করেনি। দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থা দেখে রাজা ভাবলেন সন্তান মৃত। বিষণ্ণ মনে সেই স্থান ত্যাগ করলেন। পরের দিন স্থানীয় এক ব্রাহ্মণ জঙ্গলের ওই পথেই যাচ্ছিলেন। তিনি সদ্যোজাতর কান্নার আওয়াজ পেয়ে এগিয়ে গিয়ে দেখেন একটি মেয়ে ভাল্লুক সদ্যোজাত শিশুকে পাহারা দিচ্ছে। সেই শিশুকে নিয়ে আসেন ব্রাহ্মণ। নাম রাখা হয় ভল্লুপদ। পরবর্তীকালে আউশগ্রাম জঙ্গলমহল ও তার আশপাশে রাজত্ব বিস্তার করেছিলেন ভল্লুপদ। তাঁর প্রপৌত্র হলেন রাজা মহেন্দ্র।
এখানে মূর্তির বিশেষত্ব হল, এটি দেখতে পুরো দুর্গার মত। তবে সিংহের পরিবর্তে রয়েছে বাঘ। আছে শৃগাল। গ্রামের মাঝখানে শিবাক্ষ্যা মন্দির প্রতিষ্ঠিত। পুজো উপলক্ষে মোষ বলির নিয়ম আছে। কথিত আছে, এক প্রতিবেশী রাজা একবার দেবীকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আদিবাসীরা তাতে বাধা দেন। রাজা মহেন্দ্রর সাথে যুদ্ধে সঙ্গ দেন তাঁরা। যুদ্ধে জয়লাভের পর মোষ বলি দেওয়া হয়। সেই রীতি আজও চলছে। মোষ বলির পর আদিবাসীরা নিয়ে যায় সেই প্রসাদ। স্থানীয়রা বলেন, আগে অষ্টমীতে তোপধ্বনি করে বলি হত। এখন তোপধ্বনি হয় না। তবে বোমের শব্দের পর বলি শুরু হয়। পরিবারের সদস্য শঙ্কু রায় বলেন, নবমীর দিন ব্রাহ্মণরা দেবীকে মন্দির থেকে বের করে মাথায় চাপিয়ে গ্রাম পরিক্রমায় যান। একে শিবাক্ষ্যা নাচন বলে। বর্তমানে রায়রা অমরারগড়ে তিন জায়গায় বসবাস করেন। বড় মাঝের পাড়া, মেজ দক্ষিণ পাড়া ও ছোট উত্তর পাড়ায় বসবাস করেন। গ্রামের বাসিন্দারা জানান, প্রাচীন এই পুজো দেখতে আশেপাশের এলাকা ছাড়াও বাইরে থেকেও বহু মানুষ আসেন। বিশেষ করে শিবাক্ষ্যা নাচন দেখতে অনেকে ভিড় করেন।

