সপ্তমীতে কালরাত্রি
আজ মহাসপ্তমী। আজ মা আবির্ভূতা হন কালরাত্রি রূপে।কাল অর্থাৎ অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের অনুভব। ঘটনার স্রোতই কাল। এই অনুভব শূন্যে বিলীন হয়ে যায়।কারণ সাধনার এই স্তরে সাধকের 'বিশ্বমন-আমি' বিলীন হয়ে একাকার হয়ে যায় কালরাত্রি মায়ের মধ্যে।শ্রীশ্রীচন্ডীর প্রথম চরিতে মায়ের স্তব করার সময় ব্রহ্মা বলেছেন: মা,তুমিই ভয়ঙ্কর কালরাত্রি,মহারাত্রি ও মোহরাত্রি। সাধনার তিন স্তরে মা এভাবে আবির্ভূতা হন।মোহরাত্রি সাধনার তৃতীয় স্তরে,যেখানে শরীর ও মনকে আমি মনে করে যে মোহ থাকে তার অবসান হয়। সাধনার পঞ্চম স্তরে যেখানে সাধকের ব্যক্তিমন বিলীন হয়ে যায় তা-ই মহারাত্রি।এই স্তরে ব্যক্তিমন বিশ্বমনে রূপান্তরিত হয়। আর সপ্তম স্তরে সাধকের বিশ্বমন,আমি বিলীন হতে চলেছে মহাশূন্যে। চরম বৈরাগ্য ছাড়া এই কালরাত্রির সম্মুখীন হওয়া যায় না।সাধক মহাশূন্যে মিশে যাচ্ছেন।শ্রীশ্রীচন্ডীতে শুম্ভবধের এটাই তাৎপর্য। বিজ্ঞান এই মহাকাশে কৃষ্ণগহ্বরের কথা বলে।এই গহ্বর সবকিছুকে নিজের মধ্যে টেনে নিয়ে বিলীন করে দেয়।এ সম্পূর্ণ অন্ধকারময়।আলোর এক কণাও নেই এতে। বিজ্ঞানের ছাত্ররা এ থেকে কিছুটা বুঝতে পারবেন কালরাত্রিকে। তবে সাধকের কাছে মা দুর্গা, যে কাল রাত্রি হিসেবে আবির্ভূতা হন তা আরো ভয়ংকর। সমগ্ৰ মহাকাশই কৃষ্ণগহ্বর,এক বিশাল মহাশূন্য হয়ে ওঠে।মা আজ মহারাত্রি রূপে। চরম বৈরাগ্য ছাড়া এই কালরাত্রির সম্মুখীন হওয়া যায় না।

