সর্বশেষ খবর
গোলবন্যার ম্যাচে বিশ্বমঞ্চে বীরগাথা ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রের
প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট দেশ। প্রতিপক্ষ চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। ম্যাচের আগে থেকেই ফুটবল পণ্ডিতরা কুরাসাওকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিলেন। মাঠেও সেই পূর্বাভাসেরই প্রতিফলন ঘটল। নবাগত দলটিকে নিয়ে কার্যত ছেলেখেলাই করল থমাস টুখেলের ছেলেরা। ম্যাচের স্কোরলাইন জার্মানির পক্ষে ৭-১। কিন্তু স্কোরলাইন যা-ই বলুক না কেন, শক্তিশালী জার্মান মেশিনের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করে মন জয় করে নিল মাত্র দেড় লক্ষ জনসংখ্যার এই ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র।
ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট ছিল জার্মানির। মাত্র ৬ মিনিটের মাথায় ফেলিক্স এনমেচার গোলে এগিয়ে যায় চারবারের বিশ্বসেরারা। তবে কুরাসাও যে শুধু সংখ্যা পূরণ করতে আসেনি, তা বোঝা গেল ম্যাচের ২০ মিনিটে। সারা স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দিয়ে জার্মানির জালে বল জড়িয়ে দেন লিভানো কোমেনেনসিয়া। ১-১ সমতায় ফেরে ম্যাচ। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই গোল করার আনন্দে মেতে ওঠে কুরাসাওর ডাগআউট।
তবে সেই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হতে দেয়নি শক্তিশালী জার্মানি। সমতা ফেরার পরেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করে তারা। প্রথমার্ধেই নিকো শ্লটারবেক এবং কাই হাভার্টজের পেনাল্টি গোলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় জার্মানি। দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় কুরাসাওর বক্সে একের পর এক জার্মান আক্রমণ। জামাল মুসিয়ালা, নাথানিয়েল ব্রাউন এবং দেনিজ উনদাভ গোল করে ব্যবধান বাড়ান। ম্যাচের শেষ লগ্নে ৮৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে কুরাসাওর কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতেন কাই হাভার্টজ। ৭-১ গোলে ম্যাচ জিতে জার্মানি টুর্নামেন্টে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখলেও, বিশ্বমঞ্চে বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের জন্য ফুটবলপ্রেমীদের মনে আলাদা জায়গা করে নিল কুরাসাও।

