মোড়গ্রাম পঞ্চায়েতে দুর্নীতির পাহাড়, কাঠগড়ায় প্রধানের স্বামী
রিচা দত্ত, মুর্শিদাবাদ: সাগরদিঘীর মোরগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড় এলাকা। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধান তানজেরা বিবির স্বামী অশেকুল শেখ।
পঞ্চায়েতের একাধিক সদস্যের দাবি, সরকারি পরিষেবা থেকে শুরু করে উন্নয়নমূলক কাজ, সব ক্ষেত্রেই টাকার বিনিময়ে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ, ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি।
*কী কী অভিযোগ?*
১. ঝন্টু দাস নামে এক ব্যক্তির অভিযোগ, ওয়ারিশ সার্টিফিকেটের জন্য তাঁর কাছে ২০০০ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় হুমকি দিয়ে পঞ্চায়েত থেকে বের করে দেওয়া হয়।
২. নির্বাচিত সদস্যদের অভিযোগ, গ্রামসভা থেকে তাঁদের জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে।
৩. প্রধান তানজেরা বিবি পঞ্চায়েতে প্রায় আসেন না। কয়েকবার ছাড়া তাঁকে দেখা যায়নি। কার্যত পঞ্চায়েত চালান তাঁর স্বামী অশেকুল শেখ। প্রধানের স্বাক্ষর জাল করে কাজ চালানোর অভিযোগও উঠেছে।
৪. সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই পঞ্চায়েতের গাছ কেটে বিক্রি, ব্যাটারিচালিত টোটো বিক্রি ও পুকুর লিজের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
৫. সরকারি কাজ ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সদস্যকে পাইয়ে দিয়ে বিরোধী সদস্যদের বঞ্চিত করার অভিযোগও গুরুতর।
৬. সদস্যদের বাধা সত্ত্বেও যে কোনও কাজে টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি।
স্থানীয়দের বক্তব্য, “পঞ্চায়েত সাধারণ মানুষের উন্নয়নের জন্য, কিন্তু এখানে উল্টো ছবি। কোনও কাজ করতে গেলেই প্রধানের স্বামী অশেকুল শেখকে মোটা টাকা দিতে হয়। তাঁর কথাই শেষ কথা।”
কয়েক মাস আগে সাধারণ মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে পঞ্চায়েতে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে অশেকুল শেখের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে প্রধান তানজেরা বিবি স্বামীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মানতে নারাজ। তবে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, “আমি পঞ্চায়েতে এক-দুই ঘণ্টার বেশি থাকি না, বাকিটা আমার স্বামী দেখাশোনা করে।” অশেকুল শেখ অবশ্য অভিযোগের কোনও সদুত্তর দেননি।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা কোনও দুর্নীতির পক্ষে নয়।
ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মোরগ্রাম পঞ্চায়েতের এই দুর্নীতির পাহাড় নিয়ে এখন সরগরম সাগরদিঘী।

