সর্বশেষ খবর
কুয়োয় পড়ে হস্তি শাবকের মৃত্যু, শেষরক্ষা করতে পারল না মা
প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: গভীর অন্ধকারের বুক চিরে শোনা যাচ্ছিল এক মায়ের তীব্র আর্তনাদ। রাতের অন্ধকারে বনের পথ বুঝতে না পেরে গভীর এক পাতকুয়োয় পড়ে আটকে গিয়েছিল দুই-তিন বছরের এক হস্তি শাবক। তাকে উদ্ধারের জন্য সারা রাত ধরে আপ্রাণ লড়াই চালাল মা হাতি। কখনও কুয়োর ভিতরে শুঁড় নামিয়ে সন্তানকে তোলার মরিয়া চেষ্টা, আবার কখনও তীব্র উৎকণ্ঠার ডাক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই বুকফাটা লড়াই হার মানল নিষ্ঠুর মৃত্যুর কাছে। ঝাড়গ্রামের নয়াগ্রামে একটি গভীর পাতকুয়োয় পড়ে মৃত্যু হলো এক বন্য হস্তি শাবকের।
বন দফতর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকের চাঁদাবিলা রেঞ্জের তপোবন জঙ্গল সংলগ্ন বাছুরখোঁয়াড় গ্রামে বুধবার গভীর রাতে ২৫-৩০টি হাতির একটি দল ঢুকে পড়েছিল। একটি ইটভাটার কাছে থাকা কাঁঠাল গাছ থেকে কাঁঠাল খেতে গিয়েই আচমকা ভারসাম্য হারিয়ে কুয়োর ভিতরে পড়ে যায় শাবকটি। ভোরের আলো ফুটতেই হাতির মূল দলটি জঙ্গল ও নদীর দিকে চলে গেলেও, সন্তানকে ফেলে যেতে পারেনি মা হাতিটি। সে কুয়োর পাড়েই ঠায় দাঁড়িয়ে ছানাটিকে টেনে তোলার শেষ চেষ্টা করতে থাকে।
সকালে স্থানীয় গ্রামবাসীরা এই দৃশ্য দেখে খবর দেন বন দফতরে। প্রতাপপুর বিটের বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে প্রথমে মা হাতিটিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেন। এরপর একটি জেসিবি মেশিন এনে কুয়োর একপাশের মাটি কেটে দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় উদ্ধার করা হয় শাবকটিকে। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। কুয়োর সংকীর্ণ ও দমবন্ধ করা পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার ফলে নিথর হয়ে গিয়েছিল ছোট্ট শরীরটি। বন দফতরের প্রাথমিক অনুমান, শ্বাসকষ্টের জেরেই মৃত্যু হয়েছে শাবকটির। এই ঘটনায় গোটা এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

