নিজের চিন্তার ফসল
আমাদের শাস্ত্রগুলির এই বিশ্লেষণ — কর্ম হলো চিন্তার ফুল, আর সুখ ও দুঃখ হলো তার ফল। এভাবেই মানুষ তার নিজের চাষের মিষ্টি ও তেতো ফল সংগ্রহ করে। চিন্তাই আমাদের গড়েছে, আমরা যা, তা চিন্তারই ফসল। যদি কারো মনে দুষ্ট চিন্তা থাকে, দুঃখ তার পিছু নেয় , যেমন চাকা ষাঁড়ের পিছু নেয়। একটি মহৎ ও দেবতুল্য চরিত্র কোন অনুগ্রহ বা ভাগ্যের বিষয় নয়, বরং তা সঠিক চিন্তায় অবিচল থাকার প্রাকৃতিক ফল, দীর্ঘকাল ধরে দেবতুল্য চিন্তার সঙ্গে লালিত সম্পর্কের প্রভাব। ঠিক একই প্রক্রিয়ায়, একটি নীচ ও পাশবিক চরিত্র ক্রমাগত হীন চিন্তাকে মনে পুষে রাখার ফল। মানুষ নিজেই নিজেকে গড়ে বা ভাঙে ; চিন্তার অস্ত্রশালায় সে সেই সব অস্ত্র তৈরি করে যা দিয়ে সে নিজেকে ধ্বংস করে; আবার সে সেই সব সরঞ্জামও তৈরি করে যা দিয়ে সে নিজের জন্য আনন্দ ও শান্তির স্বর্গীয় প্রাসাদ গড়ে তোলে। চিন্তার সঠিক নির্বাচন ও যথার্থ প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষ দিব্য পূর্ণতার শিখরে আরোহন করে; আবার চিন্তার অপব্যবহার ও ভুল প্রয়োগের মাধ্যমে সে পশুরস্তরেও নীচে নেমে যায়। অদ্ভুতভাবে লক্ষ্য করা যায়, মানুষ তার পরিস্থিতি উন্নত করতে আগ্রহী কিন্তু নিজেকে উন্নত করতে অনিচ্ছুক, তাই তারা আবদ্ধই থেকে যায়। একজন মানুষ কেবল তখনই সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠতে শুরু করে, যখন সে ঘ্যানঘ্যান করা ও দোষারোপ করা বন্ধ করে এবং তার জীবনকে নিয়ন্ত্রণকারী লুকানো ন্যায় বিচারের সন্ধান শুরু করে। একজন মানুষ যদি তার পাপ চিন্তাগুলো থেকে বিরত হয়, তাহলে সমগ্র বিশ্ব তার র প্রতি কোমল হবে এবং তাকে সাহায্য করতে প্রস্তুত থাকবে। এই মহাবিশ্ব লোভী, অসৎ বা দুশ্চরিত্র ব্যক্তির পক্ষে থাকে না, যদিও আপাত দৃষ্টিতে মাঝে মাঝে তা মনে হতে পারে। মানব সমাজ অনিয়ন্ত্রিত আবেগে উদ্বেল, অসংযত শোকে অশান্ত, এবং উদ্বেগ ও সন্দেহে দিশাহারা। বহু মানুষ নিজেদের জীবনকে তিক্ত করে তোলে, বদ মেজাজির বিস্ফোরণে, যা কিছু মধুর ও সুন্দর তা নষ্ট করে ফেলে, নিজেদের চরিত্রের সাম্যাবস্থা ধ্বংস করে এবং সম্পর্ক তিক্ত করে। অর্থাৎ আত্ম সংযমের অভাবে মানুষ নিজেদের জীবন নষ্ট করে এবং সুখকে নষ্ট করে। শান্ত মানুষ যেহেতু সে নিজেকে শাসন করতে শিখেছে তাই সে অন্যদের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতেও জানে এবং তারাও পরিবর্তে তার আধ্যাত্মিক শক্তিকে শ্রদ্ধা করে এবং অনুভব করে যে তারা তার কাছ থেকে শিখতে পারে এবং তার উপর নির্ভর করতে পারে।

