অযোধ্যা-বৃন্দাবনের মতোই ভক্ত টানে বিহারের 'বিহারীজি মন্দির'
নিজস্ব প্রতিনিধি: অযোধ্যার রাম মন্দির কিংবা বৃন্দাবনের বাঁকে বিহারী মন্দিরের মাহাত্ম্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তবে এই সব বিখ্যাত দেবস্থানের মতোই ভারতের প্রতিটি রাজ্যেই লুকিয়ে রয়েছে নিজস্ব কিছু অলৌকিক ও ঐতিহাসিক দেবস্থান, যার প্রাচীন ইতিহাস আজও মানুষকে বিস্মিত করে। তেমনই এক আধ্যাত্মিক ও বিস্ময়কর পবিত্র স্থান হলো বিহারের বক্সার জেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক 'বিহারীজি মন্দির' (Bihariji Temple)। জেলা সদর বক্সার থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার এবং রাজধানী পাটনা থেকে ১২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ৪০০ বছরের প্রাচীন এই শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরটিকে ঘিরে আজও লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে নানা অলৌকিক উপাখ্যান।
নথিপত্র অনুযায়ী, মুঘল সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে ১৬৩৩ খ্রিষ্টাব্দে রাজা রুদ্র প্রতাপ সিং এই মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। মন্দিরে মূলত শ্রীকৃষ্ণ এবং রাধাদেবীর পুজো করা হয়। লোকবিশ্বাস, এখানে ভক্তিভরে প্রার্থনা করলে ভক্তদের সমস্ত মনস্কামনা পূরণ হয়।
কেন এই মন্দিরটি অনন্য?
মুঘল স্থাপত্যের প্রভাব: চার শতাব্দী প্রাচীন এই মন্দিরের গায়ে মুঘল আমলের স্থাপত্য ও প্রাচীন ভারতীয় শৈলীর এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায়।
অলৌকিক উপাখ্যান: স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস, মন্দিরের গর্ভগৃহে থাকা শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ অত্যন্ত জাগ্রত। বহু বছর ধরে চলে আসা নানা অলৌকিক ঘটনার কারণে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত এখানে পুজো দিতে আসেন।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব: বক্সার জেলাটি রামায়ণের কাল থেকেই অত্যন্ত পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত। মহর্ষি বিশ্বামিত্রের আশ্রম থেকে শুরু করে শ্রীরামচন্দ্রের তাড়কা বধের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে এই ভূমির সঙ্গে। সেই পুণ্যভূমিতেই এই বিহারীজি মন্দির কৃষ্ণভক্তির এক অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
বর্তমানে শ্রাবণ মাস, জন্মাষ্টমী এবং রাধাষ্টমীর মতো বিশেষ তিথিগুলিতে এই মন্দির চত্বরে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। বিহারের পর্যটন মানচিত্রেও এই প্রাচীন দেবস্থানটি এখন বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

