হট টপিক
স্বাধীনতার পর প্রথম আলো ধূপগুড়ির ঘরে
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: স্বাধীনতার পর কেটে গিয়েছে বহু দশক। চারপাশের এলাকা যখন আলোয় ঝলমল করছে, তখন জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি ব্লকের মাগুরমাড়ি ১ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকার ছ'টি পরিবার দিন কাটাত কার্যত অন্ধকারের সাথে। অবশেষে কাটল সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষা। এই প্রথম বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়ে খুশির জোয়ারে ভাসলেন ওই পরিবারগুলির সদস্যরা। তাঁদের ঘরে জ্বলল বৈদ্যুতিক আলো। আনন্দের এই মুহূর্তকে ব্যক্ত করার ভাষা হারিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধান সড়ক থেকে ওই পরিবারগুলির বাড়ির দূরত্ব অনেকটাই বেশি। এই ভৌগোলিক অবস্থানের দোহাই দিয়ে বিদ্যুৎ দপ্তর সংযোগ দিতে দীর্ঘদিন ধরে গড়িমসি করছিল বলে অভিযোগ। ফলে সন্ধ্যা নামলেই লণ্ঠন আর কুপির আলোই ছিল ওই পরিবারগুলির একমাত্র ভরসা। এক পরিবারের সদস্য অনিমা রায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "আমাদের ছেলেমেয়েরা লণ্ঠনের আলোয় কষ্ট করে লেখাপড়া করত। এই সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা বহুবার আবেদন-নিবেদন করেছি। কিন্তু প্রশাসনের কেউ কোনো দিন আমাদের কথায় কর্ণপাত করেনি।" আর এক বাসিন্দা সুমিত্রা রায়ের কথায়, "বিগত সরকারের আমলে পঞ্চায়েত সদস্য থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ দপ্তরের দরজায় দরজায় একাধিকবার ছুটেছি। কিন্তু শুধুই আশ্বাস মিলেছে, কাজ কিছুই হয়নি।"
অবশেষে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জমানায় এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হলো। ঘরের কোণে আলো জ্বলতে দেখে আবেগাপ্লুত পরিবারের প্রবীণ সদস্যরাও। তাঁদের বক্তব্য, এই জীবনে ঘরের ভেতরে বিদ্যুতের আলো দেখতে পাবেন, সেই আশাই তাঁরা ছেড়ে দিয়েছিলেন। এখন আর ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার সমস্যা হবে না, অন্ধকার কাটায় স্বস্তিতে থাকতে পারবেন এই ছ'টি পরিবারের সদস্যরা।

