সর্বশেষ খবর
অজানা কারণে হঠাৎ স্তব্ধ হিলি স্থলবন্দর, বন্ধ ভারত-বাংলাদেশ আমদানি-রপ্তানি
প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদন, বালুরঘাট: রবিবার সকাল থেকেই সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গেল দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক স্তরের আমদানি এবং রপ্তানি বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কোনও আগাম ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের পণ্যবাহী লরি পারাপার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ব্যবসায়ী মহলে।
হিলি এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট অ্যান্ড কাস্টম ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে একটি লিখিত নোটিশ জারি করা হয়েছে। ওপার বাংলার (বাংলাদেশ) ব্যবসায়ীদেরও বাণিজ্য বন্ধ থাকার বার্তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে হঠাৎ করে এই অচলাবস্থা তৈরি হলো, তা এখনও পর্যন্ত সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার করা হয়নি। সীমান্ত বন্ধের জেরে ভারত ও বাংলাদেশ— দুই তরফেই শয়ে শয়ে পণ্যবাহী লরি আটকে পড়েছে। বহু পচনশীল সামগ্রী নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা বড়সড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
বন্দর সূত্রে খবর, সরকারি স্তরে কোনও নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও লরিতে অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই বা ‘ওভারলোড’ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে কাস্টম এজেন্ট ও লরি চালকদের একটি বিবাদ তৈরি হয়েছিল। পুলিশের কড়াকড়ির প্রতিবাদেই ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ উগরে দিয়ে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন কিনা, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। হেক্কার সম্পাদক বিকাশ মণ্ডল বলেন, কারো প্রতি আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। আমাদের কিছু অভ্যন্তরীণ বিষয় রয়েছে। ব্যবসাতেও আমরা ক্ষতির মুখে পড়ছি। তাই আপাতত ব্যবসা বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে দুই দেশের ব্যবসা বন্ধ হয়ে থাকার জেরে লরি পারাপার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বহু লরি। বর্তমানে ভারত থেকে বাংলাদেশে গম, কাঁচা লঙ্কা, ভুসি ও পাথর রপ্তানি হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৩০টি করে লরি বাংলাদেশে যায়। অপরদিকে, বাংলাদেশ থেকে বিস্কুট ও প্যাকেট জাতীয় খাবারের সামগ্রী ভারতে আসছে। তবে রপ্তানির থেকে আমদানির পরিমাণ তুলনামূলক কম রয়েছে। রবিবার সীমান্তে পারাপার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সব জায়গাতে লরি আটকে গিয়েছে। সীমান্ত সচল করতে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় প্রশাসন আলোচনায় বসছে কিনা, এখন সেটাই দেখার।

