হট টপিক
লড়াই নিজের সঙ্গে?
প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬
জগতে অশুভ শক্তির দাপাদাপি চলতে থাকলে শুভ শক্তির ভূমিকা কী হবে? মাঝে মাঝে মনে হয় শুভ শক্তি কি অশুভ শক্তির চেয়েও দুর্বল? সাধারণ মানুষের শুভ শক্তির প্রতি বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায় অনেক সময়। অনেক সময় মনে এই ধারণা জন্মে যায় যে, অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তি কখনোই পেরে উঠবে না। তাই অশুভ শক্তিকে শুধু সমালোচনা করে লাভ নেই, অশুভ শক্তির বিনাশ করতে হবে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলছেন -"বিনাশায় চ দুষ্কৃতম্। কিন্তু আজকের দিনে আমাদের লড়াই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যক্তিস্বার্থে। ট্রেনের সীটে বসার জন্য ঝগড়া, পাশের জনের জমিতে একফুট কৌশলে দখল করার জন্য গলাবাজি করে ঝগড়া, টিকিট কিনতে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে ঝগড়া ইত্যাদি ক্ষুদ্র স্বার্থেই লড়াই বেশি হয়। সমাজের স্বার্থে, মানুষের কল্যাণের জন্য লড়াই কম। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ লড়াই যেন কুকুরের লড়াই, নিজের এলাকা সুরক্ষিত রাখার জন্য। এত লড়াই করেও আমাদের আত্মশক্তি বাড়ে না, চেতনার উন্নয়ন হয় না। আমরা লড়ি কুকুর-বেড়ালের মত। আমরা বুঝতে পারি না, মূল লড়াইটা কিন্তু নিজের সঙ্গে। পাড়ার মস্তানের কাছে নয়, আমি হেরে যাচ্ছি আমার নিজের মনের ভয়ের কাছে। নিজের ভেতরের লোভের কাছে। ক্ষুদ্র মন নিয়ে বৃহৎস্বার্থে লড়াই করা যায় না। যে মনটা নিজের অহংকারের চৌহদ্দিতে আবদ্ধ, নিজের নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বাঁধা, সেই মন দিয়ে তো আকাশ ছোঁয়া যায় না। কর্ম যখন কর্মীর চেতনার উত্তরণ ঘটায় তখন তা হয়ে ওঠে কর্মযোগ। মহাভারতে বিরাট রাজার যুদ্ধ ছিল শুধুই কর্ম, আর কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ ছিল কর্মযোগ। আজ আমাদের জীবনে কর্ম আছে কিন্তু কর্মযোগ নেই। তাই সারা জীবন এতো কাজ করেও, এত কিছু পেয়েও আমাদের দুঃখ ঘোচে না, অন্তরের অতৃপ্তি দূর হয় না। আমরা কাজ করি বাড়ি গাড়ির জন্য, অর্থের জন্য, মান প্রতিষ্ঠা গ্ল্যামারের জন্য, ক্ষমতার জন্য। এগুলি আমাদের লক্ষ্য, চেতনার উত্তরণ নয়। তাই আমাদের জ্ঞান যতই বাড়ে অহংকারও ততই বাড়ে, ক্ষমতা যত বাড়ে ঔদ্ধত্ব সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে, সম্পদ যত বাড়ে ,দুশ্চিন্তাও তত বাড়ে। তাই প্রথমেই আমাদের লড়াই করতে হবে নিজের মনের ভাব পাল্টানোর জন্য। ভাবতে হবে যেভাবে চলছি, যেভাবে বেঁচে আছি এটাই কি একমাত্র উপায় নাকি অন্য কোন বিকল্প পথ আছে? নিশ্চয়ই আছে। সেই পথেরই সন্ধান আছে- ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতায়। অথচ এই ক্ষেত্রেই আমাদের রুচি হয় না!

