কেস ফাইল - ৯
স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক মধুর। এই সম্পর্কে মান অভিমান থাকতেই পারে। কিন্তু সম্পর্কে সন্দেহ দানা বাধলে পরিণতি হয় ভয়াবহ। ২০২৩ সালে এরকমই এক দাম্পত্য জীবনের করুন পরিণতি শোনাবো কেস ফাইলে
বিশেষ প্রতিবেদন: ভালই চলছিল স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক। অভাব থাকলেও শান্তি ছিল। কিন্তু সন্দেহ সব হিসাব বদলে দিল। হঠাৎ করেই স্বামীর মনে হচ্ছিল স্ত্রী বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। শুধুমাত্র সেই সন্দেহের বশে তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করল স্বামী (Man Kills Wife)। তারপর দেহের উপর ৩০ কেজি নুন ছড়িয়ে (Puts Salt on Body) তা মাটি চাপা দিয়ে তার উপর সবজি চাষ করল অভিযুক্ত।
ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের (Ghaziabad) ফজলগড় গ্রামে। অভিযুক্তের নাম দীনেশ প্রজাপতি। সে পেশায় একজন সবজি বিক্রেতা। পুলিশ জানিয়েছে, ১৩ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল দীনেশ এবং অঞ্জুর। দম্পতির ৬ এবং ১২বছর বয়সি দুটি সন্তানও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই দীনেশের সন্দেহ ছিল, তার স্ত্রী বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। সেই নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-ঝামেলা লেগে থাকত। গত ২৫ জানুয়ারিও একই কারণে অশান্তি বাঁধে দুজনের মধ্যে। সেই ঘটনার পরেই ভোররাতে শ্বাসরোধ করে অঞ্জুকে খুন করে দীনেশ। তারপর মৃতদেহ লুকিয়ে রাখে বাড়িরই অন্য একটি ঘরে।
পরেরদিন রাতে যখন সন্তানরা ঘুমোচ্ছে, সেই সময় মৃতদেহ নিয়ে চুপিচুপি বেরিয়ে পড়ে দীনেশ। গ্রাম থেকে কিছু দূরে একটি পুকুরের ধারে দেহটি পুঁতে দেয় সে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত জানত, নুন দিয়ে চাপা দিয়ে রাখলে দেহে পচন ধরবে তাড়াতাড়ি। সেই উদ্দেশ্যেই ৩০ কেজি নুন দিয়ে স্ত্রীর মৃতদেহ চাপা দিয়ে দেয় সে। তারপর তার উপর সবজির চারা লাগিয়ে দেয়।
গত শুক্রবার পুকুরের পাড় থেকে দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। ইতিমধ্যে সেটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অঞ্জুকে খুন করার পর অভিযুক্ত রটিয়ে দেয়, তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ছেলেমেয়েদের সে বলে, মা মামারবাড়িতে গেছেন। অন্যদিকে পাড়া-প্রতিবেশীদের জানায়, বাজার করতে বেরিয়েছিলেন স্ত্রী। তারপর আর ফেরেননি তিনি। এই মর্মে গত ৩০ জানুয়ারি থানায় একটি মিসিং ডায়রিও করে অভিযুক্ত।
ঘটনার তদন্তে নেমে দীনেশের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পায় পুলিশ। এরপর পুলিশি জেরার মুখে স্ত্রীকে খুন করার কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত। তার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

