বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

২৪ বিঘার বাগানবাড়ি! তৃণমূল নেতার বিপুল সম্পত্তির হদিসে চাঞ্চল্য

প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৬
২৪ বিঘার বাগানবাড়ি! তৃণমূল নেতার বিপুল সম্পত্তির হদিসে চাঞ্চল্য
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব সংবাদদাতা, গোসাবা: সুন্দরবনের প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চলের সাধারণ মানুষের নুন আনতে পান্তা ফুরনোর দশা হলেও, এক গ্রামীণ শাসক নেতার সম্পত্তির বহর দেখে চক্ষু চড়কগাছ স্থানীয় বাসিন্দাদের। দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা ব্লকের পাঠানখালির দাপুটে তৃণমূল নেতা সুবিদ আলি ঢালি ওরফে ‘ঝড়ো’। একজন সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীর কাছে ঠিক কত সম্পত্তি থাকতে পারে, তা নিয়ে সমস্ত কল্পনাকে হার মানিয়েছে ঝড়োর রাজকীয় জীবনযাত্রা ও এই বিপুল সাম্রাজ্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝড়ো এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে থাকা সম্পত্তির পরিমাণ এককথায় আকাশছোঁয়া। পাঠানখালি এলাকায় একার নামেই রয়েছে প্রায় ৬৪ বিঘা জমি। যার মধ্যে প্রায় ৪০ বিঘারও বেশি জমি জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে লাভজনক মাছের বিশাল ভেড়ি। বাকি ২৪ বিঘা জমির ওপর তৈরি করা হয়েছে একটি চোখধাঁধানো ও বিলাসবহুল বাগানবাড়ি, যা আধুনিক সমস্ত সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন। শুধু নিজের বাড়িই নয়, এলাকায় ঝড়োর নিয়ন্ত্রণে থাকা দলীয় কার্যালয় বা পার্টি অফিসটির জাঁকজমকও কোনও রাজপ্রাসাদের চেয়ে কম নয়। এছাড়া গোসাবা এলাকাতেই রয়েছে আরও কয়েকটি পাকা বাড়ি। তবে এই গ্রামীণ এলাকা ছাড়িয়ে কলকাতা এবং সংলগ্ন শহরতলির একাধিক অভিজাত এলাকাতেও এই তৃণমূল নেতার নামে একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বাড়ির সন্ধান মিলেছে বলে অভিযোগ।

সুন্দরবনের বুকে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেখানে সাধারণ মানুষ আজও মাথার গোঁজার সঠিক ছাদটুকু পাননি, সেখানে একজন ব্লক স্তরের নেতার এই বিপুল সম্পত্তি আয়ের উৎস কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আমফানের ত্রাণ, ১০০ দিনের কাজের টাকা লোপাট এবং নদী বাঁধের টাকা আত্মসাৎ করেই ঝড়ো এই বিপুল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ বিরোধীদের।

এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে স্বভাবতই আসরে নেমেছে বিজেপি এবং সিপিআইএম। বিরোধী শিবিরের দাবি, ঝড়ো ঢালি আসলে হিমশৈলের চূড়ামাত্র। সুন্দরবনের গরিব মানুষের রেশনের চাল আর ত্রাণের টাকা লুট করে তৃণমূলের ছোট-বড় সব নেতাই এখন কোটিপতি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির উচিত অবিলম্বে এই বিপুল বেনামি সম্পত্তির তদন্ত করা।
 তবে কারণ যাই হোক না কেন, গোসাবার 'ঝড়ো'র এই বিপুল সম্পত্তির খতিয়ান এখন সুন্দরবনের রাজনীতির অলিন্দে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়।