বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

জিটিএ সদস্যদের দলবদ্ধভাবে পদত্যাগের ডাক গোর্খা জাতীয় মহিলা সংস্থার

প্রকাশিত: ২৬ জুন, ২০২৬
জিটিএ সদস্যদের দলবদ্ধভাবে পদত্যাগের ডাক গোর্খা জাতীয় মহিলা সংস্থার
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিবেদন, শিলিগুড়ি: পাহাড়ের স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনিক বোর্ড ‘গোর্খল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ বা জিটিএ (GTA) বন্ধের দাবিতে নতুন করে উত্তাল হচ্ছে উত্তরবঙ্গের রাজনীতি। এবার পাহাড়ের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে আঙুল তুলে জিটিএ-র সমস্ত সদস্যদের একযোগে দলবদ্ধভাবে পদত্যাগ করার জোরদার দাবি তুলল গোর্খা জাতীয় মহিলা সংস্থা (গোরাস)। জিটিএ-কে পুরোপুরি অকেজো এবং পাহাড়ের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ আখ্যা দিয়ে এই দাবি তুলেছে সংগঠনের নেতৃত্ব।

সম্প্রতি খারসাঙ্গের (কার্শিয়াং) মারওয়াড়ি অ্যাসিস্ট্যান্ট ভবনে গোর্খা জাতীয় মহিলা সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি মানিকলা তামাং-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় পাহাড়ের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি এবং সংস্থার ভবিষ্যৎ রণকৌশল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কমলা রাই, গোর্খা জাতীয় মহিলা সংস্থার দার্জিলিং শাখা কমিটির সভাপতি বসুন্ধরা প্রধান সহ কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক শীর্ষ স্থানীয় সদস্য।পাহাড়ে দ্রুত বাড়ছে সাংগঠনিক শক্তিসভায় পেশ করা প্রতিনিধিদের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় সংগঠনের ক্ষমতা ও বিস্তার অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দার্জিলিং, খারসাং, কালিম্পং এবং মিরিক অঞ্চলের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বুথ স্তর থেকে শুরু করে সমষ্টি ও শাখা-প্রশাসন গঠনের কাজ প্রায় শেষের মুখে। নারীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করছে বলে দাবি নেতৃত্বের।

সমাবেশকে সম্বোধন করতে গিয়ে পাহাড়ের সামগ্রিক রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন কেন্দ্রীয় সভাপতি মানিকলা তামাং। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, জিটিএ পাহাড়ের গোর্খাদের মূল আবেগ ও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের পথে অন্যতম বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি জিটিএ প্রধান অনীত থাপার পদত্যাগের পর পাহাড়ের প্রশাসনিক বোর্ডে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তাতে এই ব্যবস্থার প্রাসঙ্গিকতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। মানিকলা তামাং-এর দাবি, পাহাড়ের মানুষের প্রকৃত গণতান্ত্রিক অধিকার এবং দীর্ঘদিনের আন্দোলনকে মর্যাদা দিতে হলে জিটিএ-র বাকি থাকা সমস্ত সদস্যদেরও অবিলম্বে দলবদ্ধভাবে পদত্যাগ করা উচিত।

পাহাড়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় আঞ্চলিক দলগুলোর অন্দরে ব্যাপক ভাঙন ও ডামাডোল শুরু হয়েছে। একদিকে যখন জিটিএ বাতিলের দাবিতে বিমল গুরুংয়ের মতো নেতারা সুর চড়াচ্ছেন, ঠিক তখনই গোর্খা জাতীয় মহিলা সংস্থার এই ‘দলবদ্ধ পদত্যাগ’-এর ডাক অনীত থাপার গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা (BGPM) এবং পাহাড়ের বর্তমান শাসক শিবিরের ওপর চাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। এখন দেখার, মহিলা সংগঠনের এই দাবির পর জিটিএ-র বাকি সদস্যরা কী পদক্ষেপ নেন।