হট টপিক
কামাখ্যায় অম্বুবাচী মেলা, রহস্যে মোড়া দেবীদর্শন
প্রকাশিত: ২৬ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, গুয়াহাটি: নীলাচল পাহাড়ের কোলে আবার শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মের অন্যতম প্রাচীন ও রহস্যময় উৎসব ‘অম্বুবাচী’। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, সতীর দেহত্যাগের পর এই নীলাচল পাহাড়েই এসে পড়েছিল দেবীর যোনি অংশ। সেই কারণে কামাখ্যা মন্দিরে কোনো মূর্তি পূজা হয় না, বরং দেবীর যোনির মতো আকৃতির একটি বিশেষ শিলাখণ্ডকেই পরম ভক্তিতে পুজো করা হয়। কামাখ্যাই বিশ্বের একমাত্র মন্দির, যেখানে দেবী প্রতি বছর নিয়ম মেনে রজঃস্বলা বা ঋতুমতী হন।
জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, সূর্য যখন আর্দ্রা নক্ষত্রে প্রবেশ করে, তখনই মা কামাখ্যা ঋতুমতী হন। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ সময়ে টানা তিন দিন বন্ধ থাকে মন্দিরের গর্ভগৃহের মূল দরজা। দরজা বন্ধ করার আগে ওই পবিত্র শিলাখণ্ডের চারপাশে বিছিয়ে দেওয়া হয় সাদা সুতির কাপড়। কিন্তু অলৌকিক বিষয় হলো, তিন দিন পর যখন মন্দিরের দরজা পুনরায় খোলা হয়, তখন দেখা যায় সাদা কাপড়টি সম্পূর্ণ রক্তবর্ণ বা লাল হয়ে গিয়েছে। এমনকি এই সময়ে মন্দিরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের জলও লালচে আভা ধারণ করে। আধুনিক বিজ্ঞানের যুগেও কোন মন্ত্রবলে বা প্রাকৃতিক নিয়মে এমনটা ঘটে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলা ভার।
মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকলেও এই তিন দিন নীলাচল পাহাড় চত্বরে বসে এক বিশাল মেলা। দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘটে এখানে। তবে এই মেলার মূল আকর্ষণ হলেন দেশ জুড়েই আসা সাধু, সন্ন্যাসী, অঘোরি এবং তান্ত্রিকরা। তন্ত্রসাধকদের বিশ্বাস, এই অম্বুবাচীর সময়টি সিদ্ধিলাভ এবং গোপন তন্ত্রসাধনার জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও ফলদায়ী।
এই উৎসবের আরও একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, অম্বুবাচীর দিনগুলিতে মন্দিরের ভেতরে পুরুষদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ থাকে। তিন দিন পর দেবীর স্নান ও বিশেষ পূজা শেষে চতুর্থ দিনে ভক্তরা দেবীর চরণে মাথা ঠোকার সুযোগ পান। আর উপহার হিসেবে পান সেই অলৌকিক লাল কাপড়ের টুকরো, যা ‘অম্বুবাচী বস্ত্র’ নামে পরিচিত।

