বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

লজ্জা নয়, চিকিৎসায় দূর হবে পুরুষদের যৌন সমস্যা

প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬
লজ্জা নয়, চিকিৎসায় দূর হবে পুরুষদের যৌন সমস্যা
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

বিশেষ প্রতিবেদন: বৈবাহিক বা সম্পর্কের বাঁধন মজবুত রাখতে সুস্থ যৌনজীবন অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু লোকলজ্জা আর জড়তার কারণে পুরুষদের একটি বড় অংশ নিজেদের অন্যতম প্রধান সমস্যা ‘শীঘ্রপতন’ বা প্রিম্যাচিওর ইজাকুলেশন (PE) নিয়ে মুখ খোলেন না। বিশ্বজুড়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণা ও সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, এটি কোনও স্থায়ী রোগ বা পুরুষত্বহীনতা নয়। বরং আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমেই এই যৌন সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

চিকিৎসকদের মতে, যৌনমিলন শুরু করার মাত্র এক মিনিটের মধ্যে কিংবা সঙ্গীর কাঙ্ক্ষিত সময়ের আগেই অনিচ্ছাকৃত বীর্যপাতকে চিকিৎসার ভাষায় ‘শীঘ্রপতন’ বলা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, প্রায় ৩০ শতাংশ পুরুষ জীবনের কোনও না কোনও সময়ে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। কিন্তু সামাজিক ট্যাবু বা সংকোচের কারণে মাত্র ৯ শতাংশ পুরুষ চিকিৎসকের পরামর্শ নেন, যা পরবর্তীতে মানসিক অবসাদ এবং পারিবারিক বিচ্ছেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
উদ্বেগের বিষয় হল, এই সমস্যার পেছনে কোনও শারীরিক অক্ষমতা নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক কারণই প্রধান ভূমিকা পালন করে। সেক্সোলজিস্ট ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের দাবি, সঙ্গীকে তৃপ্ত করতে না পারার অহেতুক ভয় বা ‘পারফরম্যান্স অ্যানজাইটি’ স্নায়ুর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে দ্রুত স্খলন ঘটায়। এ ছাড়াও অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততা, মানসিক চাপ, অবসাদ এবং পার্টনারের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এই সমস্যার অন্যতম প্রধান অনুঘটক।
জৈবিক বা শারীরবৃত্তীয় কারণ হিসেবে চিকিৎসকরা মস্তিষ্কের রাসায়নিক উপাদানের ভারসাম্যহীনতাকে দায়ী করছেন। বিশেষ করে মস্তিষ্কে ‘সেরোটোনিন’ নামক নিউরোট্রান্সমিটারের মাত্রা কমে গেলে এবং ‘ডোপামিন’-এর মাত্রা বাড়লে বীর্যপাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। পাশাপাশি থাইরয়েড বা টেস্টোস্টেরন হরমোনের তারতম্য, প্রোস্টেট গ্রন্থির ইনফেকশন এবং ইরেক্টাইল ডিসফাংশন (ED)-এর ফলেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। 
তবে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি এই সমস্যা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী। চিকিৎসকদের পরামর্শে ‘স্টপ-স্টার্ট’ এবং ‘স্কুইজ’ টেকনিকের মতো বিশেষ আচরণগত থেরাপির মাধ্যমে বীর্য ধারণের ক্ষমতা বাড়ানো যায়। পাশাপাশি পেলভিক ফ্লোরের পেশি শক্তিশালী করতে ‘কিগেল এক্সারসাইজ’ বা নিয়মিত যোগাভ্যাস দারুণ ফল দেয়। অতি-সংবেদনশীলতা কমাতে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বিশেষ অ্যানেস্থেটিক ক্রিম, স্প্রে বা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ (SSRI) ব্যবহার করে মিলনকে দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব। চিকিৎসকদের কড়া হুঁশিয়ারি, ইন্টারনেটের চটকদার বিজ্ঞাপন বা ফুটপাথের কবিরাজি ওষুধের ফাঁদে পা দিলে লিভার ও কিডনির স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।