বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

হ্যাটট্রিকের রাতে মেসির চোখে জল, নেপথ্যে বাবার অসুস্থতা

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬
হ্যাটট্রিকের রাতে মেসির চোখে জল, নেপথ্যে বাবার অসুস্থতা
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: কানসাস সিটির সবুজ গালিচায় তখন আলজিরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিকের উদ্দাম উৎসব। গ্যালারি ফেটে পড়ছে ‘মেসি’, ‘মেসি’ গর্জনে। কিন্তু সেই ঘোরলাগা মোহময় মুহূর্তেই গোটা বিশ্ব দেখল এক অচেনা দৃশ্য— মাঝমাঠে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদছেন ফুটবল জাদুকর! এই চোখের জল তো রূপকথার নায়ক হওয়ার আনন্দাশ্রু নয়। এর প্রতিটি বিন্দুতে যে মিশে আছে এক নিদারুণ অসহায়তা।

ব্যক্তিগত জীবনকে সবসময় সযত্নে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ থেকে আড়ালে রাখেন লিওনেল মেসি। কিন্তু সেদিন সেই বাঁধভাঙা কান্নার কারণ জানতে চাইলে, ধরা গলায় শুধু বলেছিলেন, “সত্যি কথা বলতে কী, এর সঙ্গে ফুটবলের বা আজকের ম্যাচের কোনও সম্পর্ক নেই। আমি জীবনের একটা খুব জটিল আর খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।” সেই যন্ত্রনার আসল কারণটা যখন প্রকাশ্যে এল, তখন ফুটবল বিশ্বেরও যেন বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে উঠল। গুরুতর অসুস্থ মেসির বাবা— ৬৮ বছরের জর্জে মেসি।
আর্জেন্টিনা শিবির সূত্রে খবর, গুরুতর অসুস্থ জর্জে মেসিকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। প্রথমে তাঁকে রোসারিও-র একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে বুয়েনস আইরেসের হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এই মুহূর্তে হাসপাতালের কেবিনে জর্জে মেসির পাশে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী এবং বড় ছেলে রদ্রিগো। বাবার এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির কথা মাথায় নিয়েই আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপে আলজিরিয়ার বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিলেন এলএম১০। ম্যাচের প্রথম গোলটি করার পরেই আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বিশ্বজয়ী অধিনায়ক।
মেসির ফুটবলজীবনে জর্জে মেসি শুধু জন্মদাতাই নন, তিনি তাঁর ছায়াসঙ্গী ও এজেন্টও বটে। ছোটবেলায় বার্সেলোনার লা মাসিয়া অ্যাকাডেমিতে ট্রায়াল দেওয়া থেকে শুরু করে মেসির সমস্ত চুক্তি ও পেশাদার জীবনের দেখভাল করেছেন এই মানুষটিই। স্বাভাবিকভাবেই বাবার এমন কঠিন অসুস্থতার খবর যে মেসিতে ব্যাপকভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
তবে এই চরম পারিবারিক সংকটের মধ্যেও বিশ্বকাপ ছেড়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার কোনও লক্ষণ দেখাননি আধুনিক ফুটবলের ঈশ্বর। ক্যানসাস সিটিতে দলের বেসক্যাম্পেই সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে মগ্ন রয়েছেন তিনি। মেসির পরিবার সংবাদমাধ্যমের কাছে জল্পনা বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে ‘মানবিকতা’ ও গোপনীয়তা বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছে। এখন গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা কেবলই প্রার্থনা করছেন, জাদুকরের জীবনের এই কঠিন মেঘ কেটে যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন তাঁর ফুটবল গাইড জর্জে মেসি।