হট টপিক
জঙ্গলমহলে রেলের হাত ধরে পর্যটনে বিপ্লব: জমি জট কাটল ছেন্দাপাথরে
প্রকাশিত: ১২ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: রেল মানচিত্রে জুড়তে চলেছে জঙ্গলমহল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে শুরু হতে চলেছে পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম নতুন রেলপথ তৈরির কাজ। প্রস্তাবিত এই রেললাইনটি বাঁকুড়া জেলার রানিবাঁধ ব্লক ছুঁয়ে সোজা বেলপাহাড়ীতে গিয়ে প্রবেশ করবে। এর ফলে কেবল বাঁকুড়া জেলার জঙ্গলমহল এলাকার যোগাযোগ পরিকাঠামোরই অভূতপূর্ব উন্নতি হবে না, পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের পর্যটন ক্ষেত্রেও এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে বলে মনে করছে জেলা প্রশাসন।
যোগাযোগের এই নতুন সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জঙ্গলমহলের বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র সুতান এবং ঝিলিমিলি এলাকাকে আন্তর্জাতিক মানের করে ঢেলে সাজার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। এই মনোরম পাহাড়ি ও জঙ্গল ঘেরা এলাকায় পর্যটকদের আকর্ষিত করতে গড়ে তোলা হবে একগুচ্ছ আধুনিক রিসর্ট এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির ছোঁয়া মাখানো হোম-স্টে। রেললাইনের কাজ সম্পন্ন হলে কলকাতা বা অন্যান্য জেলা থেকে পর্যটকদের আসা অনেকটাই সহজ হবে।
বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত এই রেল প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, "প্রস্তাবিত রেলপথগুলির মধ্যে পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম ভায়া রানিবাঁধ প্রকল্পটি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়িত হতে চলেছে।" জেলাশাসক আরও জানান, সম্প্রতি প্রশাসনের একটি উচ্চপর্যায়ের দল ঐতিহাসিক ছেন্দাপাথর এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানকার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বেশ কয়েক বিঘা সরকারি জমি রয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ সানন্দে সেই জমি পর্যটন উন্নয়নের স্বার্থে জেলা প্রশাসনকে হস্তান্তর করতে রাজি হয়েছে। ওই জমিতে সরকারি উদ্যোগে পর্যটকদের থাকার জন্য একটি অত্যাধুনিক লজ বা আবাসন গড়ে তোলা যায় কি না, তা এখন গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

