সর্বলোকের প্রিয়, সম্ভব?
পিতামহ ভীষ্ম ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরকে বললেন —তুমি বাসুদেবে (শ্রীকৃষ্ণের প্রতি) ভক্তিমান হয়ে, যজ্ঞ, দান- এইসব নিয়ে রাজ্যপালন কর। এভাবেই তুমি মোক্ষধর্মে অধিকারী হবে। লঘু ভোজন এবং ইন্দ্রিয়জয় করা আবশ্যক। তখন দেখবে—কেউ প্রশংসা করলেও তুমি আর সন্তুষ্ট হতে পারছ না, কিন্তু আগে খুশি হতে। কেউ বরং নিন্দা করলে আনন্দ পাবে। শেষে এমন বুদ্ধি হবে, যার ফলে নিন্দা- স্তুতিতে সমান এবং অবিচল থাকবে। যুধিষ্ঠির মহারাজ জিজ্ঞাসা করলেন —পিতামহ ! সর্বলোকের প্রিয় হওয়া খুব কঠিন কাজ। তা কীকরে সম্ভব? ভীষ্ম একথা মেনে নিয়ে বললেন, শোন, স্বয়ং কৃষ্ণ জ্ঞাতিদের দ্বারা নিয়ত উৎপীড়িত। একদিন স্বয়ং কৃষ্ণ দুঃখিত চিত্তে বসে আছেন। নারদ এসে বললেন, প্রভু আপনার মন খারাপ কেন? কৃষ্ণ বললেন শোন তাহলে। 'আমি জ্ঞাতিদের উপর প্রভুত্ব করিনি, বরং দাসত্বই করি, তবু তারা ক্রুদ্ধ ও বিদ্বেষী। সকলকে আলাদা আলাদা করে মূল্যবান স্বর্গীয় ভোগ্যবস্তু দিয়েছি। তবুও বিদ্বেষ সমানভাবে চলছে।'নারদ বললেন প্রভু, ওদের জিভগুলোকে উপড়ে ফেলতে হবে। ভোগের শেষ নেই, আকাঙ্ক্ষারও শেষ নেই ওদের। আপনি ধন-সম্পদ দিচ্ছেন, মধুর কথা বলছেন, দিয়েই চলেছেন। ওরা ভাবছে, আপনি এর বেশি দিতে পারেন কিন্তু কৃপণতাবশত দিচ্ছেন না। এরকমই হয়। সংসার এমনই বিচিত্র! তাই তাদের জিভগুলি উৎপাদন করতে হবে লৌহনির্মিত অস্ত্র দিয়ে নয়। অলৌহনির্মিত অস্ত্র দিয়ে জ্ঞাতিদের জিভগুলোকে ঘষে ঘষে উৎপাটন করুন। এছাড়া পথ নেই। শ্রীকৃষ্ণ জানতে চাইলেন, এই অলৌহনির্মিত অস্ত্র কেমন? নারদ বললেন, মুখে মুখে রত্নরাজি দান করুন। এর ফলে ওদের জিভগুলি ভোঁতা হবে।সেই অস্ত্রের নাম অন্নদান, সহিষ্ণুতা, সরলতা, কোমলতা, মান্যতা। এগুলিই অলৌহনির্মিত অস্ত্র। সুতরাং যুধিষ্ঠির, এই পথই তোমার অনুসরণীয়। জ্ঞাতিরা কখনোই তোমার সমৃদ্ধি সহ্য করবে না। তোমার যতই সত্যবাদিতা প্রভৃতি গুণ থাক, জ্ঞাতিরা তোমার বিনাশই পছন্দ করে। তথাপি তাদের প্রীতিকর কাজ করবে। তাদের দোষ গুণ নিয়ে বাইরে আলোচনা করবে না।

