হট টপিক
ইউরিক অ্যাসিডের বাড়বাড়ন্ত, সুস্থ থাকার উপায়
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রক্তে এই উপাদানের পরিমাণ বাড়লে হাড়ের জয়েন্টে তীব্র যন্ত্রণা, ফোলাভাব এবং শেষপর্যন্ত বাতের মতো মারাত্মক রোগ দেখা দেয়। চিকিৎসকদের মতে, ইউরিক অ্যাসিড আসলে আমাদের শরীরে তৈরি হওয়া একটি বর্জ্য পদার্থ। আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই, তার মধ্যে থাকা ‘পিউরিন’ নামক প্রোটিন ভেঙে লিভারে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। সাধারণ অবস্থায় এটি রক্তের মাধ্যমে কিডনিতে পৌঁছায় এবং প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু কিডনি যখন সঠিক নিয়মে তা বের করতে পারে না, তখনই রক্তে এর মাত্রা বিপদসীমা পেরিয়ে যায়।
শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বাড়ার প্রধান কারণ মূলত অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা এবং ভুল খাদ্যাভ্যাস। অতিরিক্ত পরিমাণে রেড মিট (খাসির মাংস), সামুদ্রিক মাছ, মসুর ডাল, পালং শাক, পুঁই শাক এবং ফুলকপি খেলে এই সমস্যা বাড়ে। এ ছাড়া কৃত্রিম মিষ্টিযুক্ত কোল্ড ড্রিঙ্কস, অ্যালকোহল সেবন এবং ওবেসিটি বা অতিরিক্ত ওজনের কারণেও ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকে আবার পর্যাপ্ত জল পান করেন না, যা কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে এই বর্জ্য জমতে সাহায্য করে।
এই রোগ থেকে প্রতিকার পেতে প্রথমেই খাদ্যাভ্যাসে বদল আনা জরুরি। পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। প্রতিদিন অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার জল খাওয়া বাধ্যতামূলক, যা শরীর থেকে অতিরিক্ত অ্যাসিড ধুয়ে বের করে দেয়। প্রতিদিনের ডায়েটে ভিটামিন-সি যুক্ত ফল যেমন পাতিলেবু, আমলকী এবং টক দই রাখা উপকারী। সকালে খালি পেটে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার হালকা গরম জলে মিশিয়ে খেলে ভালো ফল মেলে। এর পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থেকে সহজেই দূরে থাকা সম্ভব।

