বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
সর্বশেষ খবর

পাচারচক্রের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া আমাদই জয়ের নায়ক

প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬
পাচারচক্রের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া আমাদই জয়ের নায়ক
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ফুটবলার বানানোর টোপ দিয়ে আফ্রিকা থেকে ইউরোপে হাজার হাজার নাবালককে পাচার করার অন্ধকার ব্যবসার শিকার হতে পারতেন তিনিও। পুলিশের হাতে ধরা পড়লে মাত্র ১০ বছর বয়সেই হয়তো জীবনটা নষ্ট হয়ে যেত কিংবা শ্রীঘরের চার দেওয়ালে কেটে যেত বাকি শৈশব। কিন্তু নিয়তির লিখন ছিল অন্য। সেই পাচারের অন্ধকার সুড়ঙ্গ থেকে বেড়িয়ে আসা ১০ বছরের ছেলেটিই আজ বিশ্বমঞ্চে কোটি কোটি মানুষের নয়নের মণি।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টের জয়ের মহানায়ক হয়ে উঠলেন সেই আমাদ ডিয়ালো। তাঁর করা একমাত্র গোলেই ইকুয়েডরকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপে স্বপ্নিল সূচনা করল আফ্রিকান সিংহরা।
১২ বছর পর বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন করা আইভরি কোস্টের জন্য ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামের লড়াইটি একেবারেই সহজ ছিল না। ম্যাচের শুরু থেকেই লাতিন আমেরিকার দল ইকুয়েডর একের পর এক আক্রমণে আইভরি কোস্টের রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। প্রথমার্ধেই ইকুয়েডরের জন ইয়েবোয়াহ এবং অ্যালান মিন্দার দুটি জোরালো শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। নিশ্চিত হারের হাত থেকে রক্ষা পায় আইভরি কোস্ট। 
দ্বিতীয়ার্ধেও ইকুয়েডরের এনার ভ্যালেন্সিয়ার শট বারে লেগে প্রতিহত হয়। ম্যাচের একটা বড় সময় পর্যন্ত দুই দলের আক্রমণ ও পালটা আক্রমণের ডেডলক কোনোভাবেই ভাঙছিল না।

কিন্তু ম্যাচের ৬০ মিনিটে দলের আক্রমণভাগের ধার বাড়াতে বাজুমানা টুরেকে তুলে নিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তারকা উইঙ্গার আমাদ ডিয়ালোকে মাঠে নামান আইভরি কোস্টের কোচ এমার্স ফায়ে। মাঠে নামার পর থেকেই নিজের গতি ও ড্রিবলিংয়ে ইকুয়েডর ডিফেন্সের ঘুম উড়িয়ে দেন ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি আসে ম্যাচের ঠিক ৯০তম মিনিটে। ডান প্রান্ত ধরে উইনফ্রেড সিঙ্গো এক দুর্দান্ত দৌড়ে ইকুয়েডরের ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে বক্সের ঠিক মাথায় নিখুঁত একটি মাইনাস বাড়ান। সেখানে ওত পেতে থাকা আমাদ ডিয়ালো কোনো ভুল করেননি। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বাঁ পায়ের এক দর্শনীয় কোণাকুণি শটে ইকুয়েডরের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।
এই অন্তিম মুহূর্তের গোলের সৌজন্যে ম্যাচ জিতে নেওয়ার পাশাপাশি ইকুয়েডরের টানা ১৯ ম্যাচের অপরাজিত থাকার অবিশ্বাস্য রেকর্ডেও জল ঢেলে দিল আইভরি কোস্ট। এই জয়ের ফলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ 'ই'-তে জার্মানির ঠিক পেছনেই দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিল তারা। 
শৈশবের চরম বঞ্চনা, আইনি জটিলতা আর জীবন সংগ্রামের কঠিন পথ পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চের এই জয় যে আমাদ ডিয়ালোর ফুটবল ক্যারিয়ারে এক রূপকথার নতুন অধ্যায় লিখল, তা বলাই বাহুল্য।

আরও খবর