সর্বশেষ খবর
বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদদের টেনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও বিল পাসের লক্ষ্য বিজেপির
প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আগামী ২০২৭ সালে দেশে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে হাইভোল্টেজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। রাইসিনা হিলসের এই লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাবলি জোগাড় করার পাশাপাশি মোদী সরকারের সামনে রয়েছে তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক আইনি বাধ্যবাধকতা। সংবিধান সংশোধনকারী ‘এক দেশ এক ভোট’ (One Nation One Election), মহিলা সংরক্ষণ বিল এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation) বিল— এই তিন মেগা এজেন্ডা সংসদের উভয় কক্ষে পাস করানোই এখন পদ্ম শিবিরের প্রধান লক্ষ্য। আর এই তিন ‘বাধা’ পার হতে বিজেপির কাছে এই মুহূর্তে তুরুপের তাস হয়ে উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সদ্য দলত্যাগ করা ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদকে নিয়ে গঠিত ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (NCPI)।
বিজেপি তথা এনডিএ শিবিরের কাছে আগামী বছরটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরকার চালাতে মোদী জোটের কোনো সমস্যা না হলেও, সংবিধান সংশোধন করার মতো বড় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সংসদের দুই কক্ষেই বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন।
দেশজুড়ে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গে করার এই বিল পাস করতে গেলে সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন বাধ্যতামূলক। ২০২৬ সালের পর লোকসভার আসন পুনর্নির্ধারণের পরেই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর হওয়ার কথা। উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের আসন সংখ্যার ভারসাম্য রক্ষার এই জটিল বিল পাস করানো মোদী সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন ধরিয়ে যে ২০ জন সাংসদ ত্রিপুরার এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন, দিল্লির বর্তমান সমীকরণে তাঁদের গুরুত্ব এখন অপরিসীম। রাজ্যসভা ও লোকসভায় বিল পাসের ক্ষেত্রে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতাহীন বিজেপির কাছে এই ২০ জন সাংসদের ভোট অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে চলেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের উপস্থিতিতে এই বিক্ষুব্ধ সাংসদদের বৈঠক এবং দলবদল মূলত বিজেপির এই দীর্ঘমেয়াদি ব্লু-প্রিন্টেরই অংশ।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এনডিএ প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করতে এবং বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের চাপ হালকা করতে এই নতুন শক্তির সমর্থন বিজেপিকে অনেকটাই অক্সিজেন দেবে। এনসিপিআই-এর পক্ষ থেকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তাঁরা সংসদের অন্দরে গঠনমূলক ভূমিকা নেবেন। এর ফলে স্পষ্ট যে, আগামী দিনে এই তিন বড় বিলের ভাগ্য নির্ধারণে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজেপিকে পার করতে বড় অনুঘটকের কাজ করবে এই দল।

