সর্বশেষ খবর
বিশ্বের সেবা করেই ‘বিশ্বগুরু’ ভারত: কানাডায় বার্তা মোহন ভাগবতের
প্রকাশিত: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিশেষ সংবাদদাতা: সামরিক বা অর্থনৈতিক দিক থেকে ‘মহাশক্তিধর’ রাষ্ট্র হিসাবে পেশিশক্তি প্রদর্শন নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি ও সেবা দিয়ে বিশ্বমঞ্চে ‘বিশ্বগুরু’র আসন অর্জন করেছে ভারত। সোমবার কানাডায় আয়োজিত ‘হিন্দু বিশ্ব বন্ধু’ সভায় এই তাৎপর্যপূর্ণ দাবি করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর এদিনের বক্তব্যের মূল সুরই ছিল ভারতীয় দর্শনের গোড়ার কথা— বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’।
সংঘপ্রধান স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিশ্বমঞ্চে ভারতের এই শক্তিশালী উত্থানের অর্থ কোনো দেশের ওপর আধিপত্য বিস্তার করা নয়, বরং “আরও ঐক্যবদ্ধ ও মুক্ত এক মানবসমাজ” গড়ে তোলা। প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “যখনই ভারত শক্তিশালী হয়েছে, তখন সে আর পাঁচটা দেশের মতো স্বার্থপর ‘মহাশক্তি’ হয়ে ওঠেনি। বরং একটি মহিমান্বিত দেশে পরিণত হয়েছে। ভারতকে অনেকেই হয়তো ‘মহাশক্তি’ বলতে পারেন, কিন্তু ভারত আসলে তা নয়। ভারত প্রাচীনকাল থেকে আজ পর্যন্ত বিশ্বের নিঃস্বার্থ সেবা করেছে এবং সেই সেবার জোরেই বিশ্বগুরু হয়েছে, মহাশক্তিধর শাসক নয়।’’
মোহন ভাগবত আরও মনে করিয়ে দেন যে, অন্য দেশের সীমানা দখল করা বা নিজের সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়া ভারতের চিরকালীন ঐতিহ্যের পরিপন্থী। ভারত সবসময় মৈত্রীর বন্ধনে এক মুক্ত ও উদার সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে সওয়াল করে এসেছে। বর্তমান বিশ্ব যখন নানা যুদ্ধ এবং কূটনৈতিক হানাহানিতে দীর্ণ, তখন ভারতের এই প্রাচীন সেবাধর্ম এবং পরোপকারের আদর্শই বিশ্বকে সঠিক দিশা দেখাতে পারে বলে মনে করেন আরএসএস প্রধান। তিনি আরও বলেন, ভারতীয় সভ্যতার ঐতিহ্য হল জ্ঞান বিতরণ করা, দেশ আক্রমণ বা “জয়” কিংবা “ধর্মান্তরিত” করা নয়। মেক্সিকো থেকে সাইবেরিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়েছেন ভারতীয়রা। তাঁরা যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই জ্ঞান, গণিত, আয়ুর্বেদ ও সভ্যতার মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

